লাল বলের ক্রিকেট, এক ম্যাচ, পাঁচদিনের মহারণ। ইংল্যান্ডে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার সিরিজে পাঁচ ম্যাচের ২৫ দিনে বিশ্ব দেখেছে অনেক নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ ও উত্তাপ। সিরিজজুড়ে ছিল ব্যাটারদের উড়ন্ত বিচরণ। ইংল্যান্ড ও ভারতের ব্যাটাররা সিরিজে করেছেন ২১ শতক। একক কোন সিরিজে যা সর্বোচ্চ। ১৯৫৫ সালে একটি সিরিজে ব্যাটাররা হাঁকিয়েছিল ২১ শতক। ফ্রাঙ্ক ওয়ারেল ট্রফি সিরিজে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার তুলেছিলেন সমানসংখ্যক শতক।
ওভালে শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে তীরে এসে তরি ডোবায় ইংল্যান্ড। সাত বছর পর ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ করে হাতছাড়া। ইংলিশরা ৬ রানে ম্যাচ হেরে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে, সিরিজও ড্র হয়। সবচেয়ে বেশি শতকের আগের সেই ফ্রাঙ্ক ওয়ারেল ট্রফি অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার সিরিজে সর্বোচ্চ শতকের পাশাপাশি দুদলের ব্যাটাররা অর্ধশতকের বেশি ইনিংস খেলেছেন ৫০টি। ৫০টি বা বেশি অর্ধশতক ইনিংস খেলা হয়েছিল ৩২ বছর আগের এক সিরিজে। লাল বলের ক্রিকেটে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা ১৯৯৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে করেছিলেন সেই রেকর্ড। ছয় ম্যাচের সিরিজটি অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার সিরিজে সর্বোচ্চ রান ভারত অধিনায়ক শুভমন গিলেট। ১০ ইনিংসে গিল করেছেন ৭৫৪ রান। তার নামের পাশে আছে চার শতক। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার জো রুট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩৭ রান করেন ৯ ইনিংসে। তিনটি শতক হাঁকান রুট। একই সিরিজে লাল বলের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক হয়েছেন গিল। ছাড়িয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা, জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিংদের মতো কিংবদন্তিকে।
স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা সিরিজে ২১ শতকের ৯টি করেছেন। সফরকারী ভারতের ব্যাটাররা হাঁকান ১২ শতক। একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটি তোলেন শুভমন গিল। ভারত অধিনায়ক হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে করেন ২৬৯ রান। ভারত সেই টেস্টে হেরে যায়।
পাঁচ টেস্টের প্রথমটিতে ৫ উইকেটে জিতে দারুণ ছন্দে শুরু করে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের ৩৩৬ রানের বিশাল হারে সিরিজে আসে সমতা। লর্ডসে তৃতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে দুদলই সমানসংখ্যক রান তুলেছিল। শেষঅবধি ২২ রানের জয় পায় ইংল্যান্ড। এগিয়ে থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টটি হয় ড্র। তাতে যেন বেঁচে ছিল টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য।
ওভালে পঞ্চম টেস্টে ভারতের কাছে অগ্নিপরীক্ষা ছিল। সিরিজে বাঁচামরার লড়াইয়ে ম্যাচের শেষ দিনে পরীক্ষায় সফল তারা। ইংল্যান্ডের নাকের ডগায় থাকা ম্যাচ ভারত জিতে নেয় মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিধের বোলিংয়ে। রোহিত- কোহলিদের ছাড়া নতুন ভারত জিতে নেয় অঘোষিত ফাইনাল। শেষ ম্যাচ জয়ের নায়ক সিরাজ সিরিজে তুলে নেন সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট। ১১১৩ বল করেছেন সিরাজ পুরো সিরিজে, যা সর্বোচ্চ।









