ভারতের দার্জিলিংয়সহ শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি এবং খড়িবাড়িতে হদিস মিলেছে ১০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া স্নোয়ি মসকিটোর বা ডাউনসিওমিয়া অ্যালবোল্যাটেরালিসের সন্ধান।
প্রাণিবিদ্যার স্নাতকোত্তরের একদল শিক্ষার্থী মশার নমুনা সংগ্রহ করে দাবি করছে তারা উত্তরবঙ্গে একশোরও বেশি বছর আগে শেষ দেখা যাওয়া মশার একটি প্রজাতির নতুন করে সন্ধান পেয়েছেন।
ইন্ডিয়ান জার্নাল অব এন্টামোলজি’র অনলাইন সংস্করণে গবেষণাটি প্রকাশ পায়। ১৯০৮ সালে অসমের পাহাড়ে প্রথম স্নোয়ি মসকিটোকে আবিষ্কার করেন উইলিয়াম থেবোল্ড। পরে ব্রিটিশ পতঙ্গবিদ পি জে ব্যারাউড ১৯২০ এর দশকে সুকনা ও কার্শিয়াঙে এই মশার অস্তিত্ব পান। তবে ১৯২০ এর দশক এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের গবেষণায় মশার এই প্রজাতি আর মেলেনি বলে দাবি।
এই গবেষক দলের এক সদস্য রত্নদীপ বলেন, অন্য রকম ঠেকছিল এই লার্ভা। খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে, এই প্রজাতিটি স্নোয়ি মশার। গায়ে বরফের মতো দেখতে এক ধরনের আঁশ থাকে বলে তাইল্যান্ডে এই মশাটি এমন নামে পরিচিত।
তিনি জানান, তাইল্যান্ডের গবেষণাতেই বেরিয়েছিল, মশাটি ডেঙ্গু এবং গোদের জীবাণুবাহক। অনেক মিল থাকায় এই মশাকেও এডিস গোত্রেরই ভাবা হত। কীভাবে হঠাৎ একশো বছর পরে উদয় হল এই মশা? রত্নদীপরা মশাটির জিন নিয়ে নতুন গবেষণা শুরু করেছেন। সেটির বিবর্তন কী ভাবে হয়েছে, গবেষণা শেষে মিলতে পারে উত্তর।
গবেষকেরা জানাচ্ছেন, মশাটি বাঁশের ছিদ্রে জমা জলে জন্মায়। মানুষ, পশুদের দিনের বেলায় কামড়ায় মশাটি। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের ৩০০ থেকে ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় পাওয়া গেলেও, সম্প্রতি এই মশাদের লার্ভা মিলেছে মাত্র ১২০ মিটার উচ্চতাতেই। গবেষকদের গাইড ছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ধীরাজ সাহা।








