মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সাংবাদিকের প্রশ্নে রেগে গিয়ে যা বললেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কিশোরগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ তার মনোনয়ন বাতিল করেন। তিনি জানান, হলফনামায় মামলা ও ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

পরে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষের সামনে গণমাধ্যম কর্মীরা তার কাছে জানতে চান তিনি আপিল করবেন কিনা।  জবাবে চআখতারুজ্জামান বলেন, আপিল করব কি-না সেটা তো দলের সিদ্ধান্ত। দল যদি বলে করব। আমি বিএনপি করি বিএনপি করতাম সারা জীবন বিএনপি করবো।

আপনি তো বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেননি বা বিএনপি তো নির্বাচনে যাচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জবাব তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আপনি  বলার কে আমি বিএনপি কি-না? আপনি কে?

আপনি তো স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রতিবাদ, কি বলেছি সাংবাদিক সাহেব। বুইজ্জা প্রশ্ন করবেন। আননেসেসারি লিডিং প্রশ্ন করবেন না।  কি সাংবাদিকতা করেন কথা না জেনে কথা বলেন।’

আপনি তো দলের প্রার্থী না তো দল বললে আপিল করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরে বাবা আমি দলের প্রার্থী না কখনো বলেছি। আমি তো এখনো বলছি দল বললে।

আপনি তো স্বতন্ত্রপ্রার্থী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থীর সঙ্গে দলের সম্পর্ক কি? আমি প্রার্থীতা করেছি দলের সঙ্গে প্রতিবাদ করে। এখন যদি দল বলে করো না!

আপনার মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে ষড়যন্ত্র বা অন্য কিছু দেখতেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র কি, আমার কাগজপত্র বৈধ না এখানে ষড়যন্ত্রের কি আছে।

আপনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য হিসাবে আপনার কাগজপত্র সঠিক করে দাখিল করার কথা ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর পর্যন্ত আমার নামে কোন মামলা-মোকদ্দমা নাই। নির্বাচনী আইনের মধ্যে লেখা আছে পাঁচ বছরেরটা দরকার। পাঁচ বছরের বাইরেরটাতো লেখার দরকার নাই।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী আশরাফ আলী ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আহসান উল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম (গণফ্রন্ট), অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন (স্বতন্ত্র), আলেয়া (এনপিপি), মো. আব্দুল কাহহার আকন্দ (আওয়ামী লীগ) ও মো. বিল্লাল হোসেন (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট) নির্বাচনে অংশ নেবেন।

আক্তারুজ্জামানবিএনপিমনোনয়নপত্র বাতিলরাজনীতি