মেয়র হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আজ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। মেয়র হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক পৃথক বাণী জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (২৮ নভেম্বর) মঙ্গলবার মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল পৃথক পৃথক বাণী জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বানী

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের মেয়র হানিফের জীবন-কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জাানিয়ে বলেছেন, মোহাম্মদ হানিফ তাঁর কর্মের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। তিনি বলেন, নীতি ও আদর্শে অটল মোহাম্মদ হানিফ কোন ধরনের প্রলোভনে কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

মোহাম্মদ হানিফ এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরাতন ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৪৪ সালের ১লা এপ্রিল জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও অত্যন্ত স্নেহভাজন। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ হানিফ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে তিনি আমৃত্যু জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। দুঃখী মানুষের নেতা মেয়র হানিফ ঢাকাকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভা চলাকালে ট্রাকমঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হলে তিনি মানবঢাল তৈরি করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালান। জীবনবাজি রেখে নেত্রীকে বাঁচাতে তাঁর আত্মত্যাগের এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বানী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের একজন নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় বেঁচে থাকবেন আজীবন। আগামীকাল মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাণীতে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে আরও বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সফল মেয়র এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ। বাঙালির মুক্তিসনদ ৬-দফা ঘোষণার সময় থেকে তিনি জাতির পিতার একান্ত সহকারি হিসেবে অত্যন্ত একাগ্রতা ও বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই জননেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়। সেদিন মোহাম্মদ হানিফসহ দলের নেতারা মানবঢাল তৈরি করে আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। মস্তিষ্কসহ তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার ঢুকে পড়ে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও মস্তিস্কের স্প্লিন্টার নিয়েই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মোহাম্মদ হানিফের সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীমেয়র হানিফমোঃ সাহাবুদ্দিনরাষ্ট্রপতিশেখ হাসিনা