ভয়াবহ বৈরি আবহাওয়ার শিকার সারাবিশ্ব

বিরূপ আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত সাউথ কোরিয়া, ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য। সাউথ কোরিয়ায় ভারি বৃষ্টিপাত থেকে বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি টানেল পানির নিচে ডুবে কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের দুর্ভোগে রয়েছেন দক্ষিণ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মানুষ। ৫৪ ডিগ্রি সেলিসিয়াস ছুঁইছুঁই কোথাও কোথাও। ভারতে যমুনা নদীর পানি কমলেও এখনও ডুবে আছে দিল্লির একাংশ।

জুলাই মাসের ৯ তারিখ থেকেই টানা ভারি বর্ষণ দেখছে সাউথ কোরিয়া। দেশটির প্রায় সব নদীর পানি বেড়েছে। দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। সাউথ কোরিয়ার উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ভুমিধসের এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুলাই) মিহো নদীর পানি বেড়ে সাউথ কোরিয়া ওসং শহরে ৪ লেইনের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল পানির নিচে ডুবে যায়। হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া পানিতে আটকা পড়ে একটি বাসসহ কমপক্ষে ১৫টি যানবাহন। ৬৮৫ মিটারের টানেলটিতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অনেকেই টানেলের ভেতরে রেলিং ও উঁচু স্থাপনার ওপর আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচান। অতিবৃষ্টির পরেও টানেলটি কেন বন্ধ করা হলো না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত করছে সাউথ কোরীয় প্রশাসন।

জাপানে একদিকে পূর্বাঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে একদিনেই একমাসের সমান বৃষ্টি হয়েছে।

সাউথ কোরিয়ায় বৃষ্টির ঘনঘটা আর প্রখর রৌদ্র পশ্চিমা বিশ্বে। ইউরোপে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ছে প্রতিদিন। ইটালির রোম, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ ১৬টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইটালির আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার রোমে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪৪ ডিগ্রির মাত্রা। ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড পুড়ছে সূর্যের আলোয়। স্পেনের মাদ্রিদে চিড়িয়াখানার জন্তুদের বরফ খেতে দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাস অব্দি তীব্র তাপে পুড়ছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ফিনিক্সে টানা ১৫ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রির ওপরে। পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ অঞ্চল ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে তাপমাত্রার পারদ ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে তাপমাত্রার পারদ। দেশটির আজলুন বনাঞ্চলে দাবানলে পুড়ে গেছে বিশাল অঞ্চল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত জুন মাস ছিলো বিশ্বের ইতিহাসের উষ্ণতম। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন থামানো না গেলে আরও ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউরোপকোরিয়াজাপানবৈরি আবহাওয়ামধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্রসারাবিশ্ব