মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আজ রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সম্বলিত মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

আজ ১০ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণি এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সম্বলিত মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাস্কর্যের গায়ে লেখা আছে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’, তাই এটি শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, এটি একটি ইতিহাস। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে আজ আমরা অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি। তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি। ঘাতকরা তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। কিন্তু আমরা শুরু থেকেই তাঁর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে আসছি।

রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেনা প্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সাথে আলোচনার করে কয়েকটি স্থান নির্বাচন করার পর এই স্থানটিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারণ এই স্থান দিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগণ যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও এছাড়াও স্থানটির পাসেই রয়েছে জাতীয় সংসদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বিজয় সরণিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধন শেষে সেনাবাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভাস্কর্যটি স্থাপনার সাথে জড়িত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ধন্যবাদ জানান।

জাতির পিতার এই ভাস্কর্যটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয় এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিজয় দিবস প্যারেডে প্রদর্শিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্যটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ প্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনী প্রধানের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় দীর্ঘ ৫ মাসের অক্লান্ত ও নিরলস পরিশ্রমে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণে’ স্থাপিত হলো।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ স্বাধীনতাকামী জনগণের হৃদস্পন্দন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা। স্থাপত্যটির সাতটি প্রাচীর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোকিত ৭টি আন্দোলন তথা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি। এছাড়াও সাতটি প্রাচীর দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ক্রম উর্ধ্বগামী ৭টি প্রাচীর জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নকে নির্দেশ করে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সমৃদ্ধ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে বাঙালির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুমৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গনশেখ মুজিবুর রহমানশেখ হাসিনা