পাকিস্তানকে ১২৭ রানের নিচে আটকালেই সেমিতে বাংলাদেশ

সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগের মুখে ব্যাটিংটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের বিতর্ক ওঠা আউটের পর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১২৭ রান তুলেছে লাল-সবুজের দল।

দিনের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সাউথ আফ্রিকাকে ১৩ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের সমীকরণ নাটকীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস। ডাচদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু প্রোটিয়াদের হারে শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে টাইগারদের অবশ্যই হারাতে হবে পাকিস্তানকে। কাজটা যদিও এখন বেশ কঠিন। ১২৭ রানের পুঁজি নিয়ে জিততে বোলার-ফিল্ডারদের অসাধারণ কিছুই করে দেখাতে হবে।

রোববার অ্যাডিলেড ওভালে টসে জেতা বাংলাদেশ ভালোই শুরু করে। ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে লিটন খেলেছিলেন ২৭ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছিলেন। শাহিন আফ্রিদির বলে পুল শটে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে মারা ছক্কা ইঙ্গিত দিচ্ছিল। পরে শর্ট ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মাসুদের হাতে ধরা পড়ে লিটনের ইনিংস ৮ বলে ১০ রানেই শেষ হয়।

শাদাবের করা একাদশ ওভারে রিভার্স সুইপ খেলে পয়েন্টে মাসুদের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার। ১৭ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২০ রান করা সৌম্য মাঠ ছাড়লে আসেন সাকিব। পরের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বল তার বুটে লাগে। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল আগে ব্যাটে হালকা ছুঁয়েছিল। বিস্ময়করভাবে তৃতীয় আম্পায়ারও সাকিবের আউটের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। যা ঘিরে উঠেছে বিতর্ক।

আউটের পর সাকিবের যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। ডাগ আউটে থাকা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের হতভম্ব চেহারাও টিভি পর্দায় ধরা পড়ে। সাকিব এসে দুই ফিল্ড আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। গ্যালারিতে দর্শকরা বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সাকিব বেরিয়ে যেতে যেতে ফিরে এসে আবারও কথা বলেন আম্পায়ারদের সাথে। শেষ পর্যন্ত রানের খাতা না খোলা সাকিবকে আফসোস নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।

সাকিবের বিতর্ক ওঠা আউটের পর ফিফটি তুলে নেন শান্ত। ৪৮ বলে ৭ চারে ৫৪ রান করে তিনি ইফতিখারের বলে বোল্ড হন। রানের খাতা খোলার আগে শান্ত জীবন পেয়েছিলেন। তার ক্যাচ নিতে পারেননি শাদাব। ব্যক্তিগত ২০ রানে থাকা শান্তর ক্যাচ মিস করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

ছয়ে ব্যাট করতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন ১১ বল খেলে করে যান মাত্র ৫ রান। ১৭তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির ইয়র্কার বলে হন বোল্ড। একই ওভারে শূন্য রানে নুরুল হাসান সোহান ডিপ পয়েন্টে মোহাম্মাদ হারিসের ক্যাচ হন।

শাহিন আফ্রিদি পরের ওভারে তুলেন এক রান করা তাসকিন আহমেদের উইকেট। মিড অফে ক্যাচ ধরেন বাবর আজম। হারিসের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এক হাজার রান পূরণ করেন আফিফ। পঞ্চম বলে ওয়াসিমের হাতে ধরা পড়েন ৬ বলে এক চারে ৭ রান করা নাসুম। আফিফ ২০ বলে ৩ চারে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের পক্ষে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন শাহিন আফ্রিদি। শাদাব খান দুটি ও একটি করে উইকেট পান হারিস রউফ ও ইফতিখার আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

অ্যাডিলেডআফিফটি-টুয়েন্টি পাকিস্তানটি-টুয়েন্টি বাংলাদেশটি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২লিটনলিড টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপশান্তসাকিব