পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সচেতনতা বাড়াতে পথনাটক প্রদর্শন

সমাজের মূলধারার বিপরীতে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত, হিজড়া এবং প্রতিবন্ধীদের অধিকার সচেতনতা বাড়াতে রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে পথনাটক প্রদর্শন করছে পিছিয়ে পড়া ‘জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্প।’

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে এরই মাঝে অনেকটা সচেতন হয়েছেন বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত, হিজড়া ও প্রতিবন্ধীরা।

গত তিন বছর ধরে রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট জেলায় পথ নাটকের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে পিছিয়ে পড়া ‘জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্প।’ এই প্রকল্পে’ রয়েছে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত, হিজরা , ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীরা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ির উপজেলা রিসিকুল ইউনিয়ন, পবা উপজেলার হরগ্রাম ইউনিয়ন, পুঠিঁয়া উপজেলার জিওপাড়া ইউনিয়র ও নওগাঁয় মান্ডা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নে ওয়েভ ফাউন্ডেশ তাদের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের মাঝে অধিকার সচেতনা বাড়াতে ৪টি ইউনিয়নে ৪টি থিয়েটার পথনাটকে অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে কুসুম্বায় মানডের বাড়ে বাহা থিয়েটার, রিশিকুলে মানওয়া থিয়েটার, হড়গ্রাম ও জিওপাড়ায় বাঁচার আশা থিয়েটার।

এসব পথনাটকে স্থানীয় প্রতিনিধি, এলাকার মানুষসহ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরা অংশ নেন। পথনাটকের পাশাপাশি গান-নাচের সঙ্গেও অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেও নেওয়া হয় নানা মতামত। জীবন মান উন্নয়নে সমানের কাতারে এগিয়ে নিতে এই প্রকল্পটি আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরা।

সাঁওতাল সমাজের একজন প্রতিনিধি বলেন, আমাদের আগে অবহেলার চোখে দেখা হতো, কেউ কাজ দিত না, সন্তানদের স্কুলে পড়াতে পারতাম না কিন্তু এখন সমাজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে এসব নাটক দেখে সবাই সচেতন হয়েছে আমরা এখন সব জায়গায় যেতে পারি, কথা বলতে পারি।

হিজড়া গোষ্ঠীদের পক্ষ থেকে মাধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও সমাজের কাছে আমরা অবহেলিত, প্রথমে পরিবার পরে সমাজ আমাদের আশ্রয় দেয় না। এমনকি নিজেদের সম্পত্তি থেকেও মা-বাবা বঞ্চিত করে। দুবির্ষহ এমন জীবনে আমরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ি তবে গত পাঁচ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে মানুষের মধ্যে। সরকার হিজড়াদের স্বীকৃতি দিয়েছে, বিভিন্ন এনজিও সচেতনামূলক কার্যক্রমে এখন আমরা সব জায়গায় সম্মান পাই, কাজ করতে পারি।

পথনাটকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছাড়াও স্থানীয় প্রতিনিধিরা, ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ত ব্যক্তিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বাদ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

নওগাঁ জেলার মান্ডা উপজেলায় ৮নং কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নওফেল আলী মন্ডল বলেন, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন পিছিয়ে পড়া এসব মানুষ।

সমাজের একটি মানুষকেও বাদ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন মান্ডা উপজেলার এডভোকেসি নেটওর্য়াক কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম।

পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম পথনাটকের পাশাপাশি নানা কর্মশালার মাধ্যমে আরও বেশি সচেতন করার আহ্বাবান জানান।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পটি আগামী বছর জুলাইয়ে শেষ হওয়া কথা থাকলেও এসব জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে প্রকল্পকটি চালুর রাখার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

সমাজে সব জনগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে আগামীতে এই প্রকল্পের সময় আরও বাড়বে বলে আশা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী মানুয়েল টুর্ডু।

তিনবছর ধরে চলা এই প্রকল্পটিতে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, ক্রিশ্চিয়ান এইডের পাশাপাশি বন্ধু, ব্লাস্ট, নাগরিক উদ্যোগ ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছে।

ইউরোপিয় ইউনিয়নপথনাটক প্রদর্শনপিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী