‘ঢাকাই সিনেমার মা’ এর অভিনয়ে ফেরার আকুতি

বিজ্ঞাপন

রেহানা জলি। যাকে বলা হয় ‘বাংলা চলচ্চিত্রের মা’! সিনেমার মত বাস্তব জীবনেও তাকে কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে পারিবারিক দায়িত্ব। এরমধ্যেই ২০১৮ সালে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সেই সঙ্গে শারীরিক আরো জটিলতা। টাকার অভাবে চিকিৎসাও নিতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ২৫ লাখ টাকার অনুদানে চিকিৎসা করান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কেমন আছেন ঢাকাই সিনেমার এই গুণী অভিনেত্রী? শনিবার রাতে কথা হয় তার সাথে। চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রেহানা জলি তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন,মৃত্যুকে জয় করে আমি এ পর্যন্ত আসছি। আল্লাহ রহমতে আগের চেয়ে এখন ভালো আছি। দর্শকের উদ্দেশে বলি, আপনারা দোয়া করবেন। আবার যেন রেহানা জলি আপনাদের মধ্যে আসতে পারে। আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে যেন আমি বেঁচে থাকতে পারি। সেই সুযোগটা যেন আল্লাহ আমাকে দেয়।

বর্তমানে বাসায় সময় কাটে কীভাবে, এমন প্রশ্নে জলি বলেন, ‘বাসায় নামাজ কালাপ পড়ি। বোনদের সাথে সময় কাটাই। বোনরা আমাকে অজস্র ভালোবাসে। বলা যায় ওরা জীবনই উৎসর্গ করে দিয়েছে আমার পেছনে। আমার ছোট তিনটা বোন। খুবই ভালোবাসে আমাকে। ওদের জন্যই আজ আমি বেঁচে উঠছি, নাহলে পারতাম না।’

চিকিৎসক দ্বীন মুহাম্মদের অধীনে তিনি চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক অসুস্থতার কারণে অভিনয়ে নেই অনেক দিন। এ নিয়ে অভিনেত্রীর হৃদয়ে আছে ক্ষত। তিনি বলেন, অভিনয় করতে না পারায় হৃদয়টা আজ ক্ষতবিক্ষত। আমার কাঁধে অনেক দায়িত্ব। মায়ের কাছে কথা দিয়েছি, আমি আমার বোনদের দেখে রাখবো। ভাই আগেই মারা গেছে। পুরো সংসারের দায়িত্ব আমার উপর। জীবনে কোনো জায়গা জমি করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি চাই আমাকে যেন তিনি একটুকরো জমি দেন এবং আজীবন সম্মাননা। এ দুটো জিনিস পেলে মরলেও আমার শান্তি।

অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রেহানা জলি। বেশির ভাগই নায়ক কিংবা নায়িকার মায়ের চরিত্রে। তবে নিজেও নায়িকা হয়েও মাতিয়েছেন বেশকিছু সিনেমা। বিশেষ করে নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর এবং মান্নার বিপরীতেও নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে। এ প্রসঙ্গে জলি আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি মান্নার নায়িকা হিসেবেও অভিনয় করেছি, আবার মান্নার মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আলমগীরনাটকনায়করাজ রাজ্জাকমান্নারেহানা জলিলিড বিনোদনসিনেমা