আলু-ডিম-পেঁয়াজে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের প্রভাব নেই বাজারে

সরকারের পক্ষ থেকে আলু, ডিম ও পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেওয়ার ঘোষণায় খুব একটা প্রভাব পড়েনি বাজারে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্য তিনটি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, যারা মালপত্র সরবরাহ করে, তারা না কমালে খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারবেন না।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার, দোকান ও বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এচিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারগুলোতে এক হালি ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। বাজার ও মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে কথা হচ্ছিলো বেসরকারি চাকরিজীবী কবির হোসেনের সঙ্গে। আলু, ডিম ও পেঁয়াজের দাম কমার ঘোষণার কোন প্রভাব বাজারে আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন: সরকার দাম বেধে দিলেও ব্যবসায়ীরা তো মানছে না। তাদের মনমতোই দাম বাড়াচ্ছে। শুক্রবার তিনটি পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও আগের দামেই বিক্রি করছে। ঘটনা হলো বাজার মনিটরিং কম হচ্ছে।

আক্ষেপ করে কবির হোসেন বলেন: বাজারে পাঁচশ’ টাকা নিয়ে গেলে কাঁচা বাজারই হয় না, মাছ-মাংস খাবেন ক্যামনে! মাছ-মাংসের যে দাম! জীবন চলা নিয়ে হিমশিম অবস্থা। মাসে বেতন পাই বারো হাজার টাকা। গত দেড় বছরে সব পণ্যের দাম বেড়েছে দুই-তিনগুণ। অথচ দেড় বছরে দেড় টাকাও বেতন বাড়েনি।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের গেটে মুরগির ডিম বিক্রি করেন মেহেদি। তিনি জানান: ডিমের হালি ৫০ আর ডজন ১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ ধরে এই রেটেই আছে।

মহল্লার দোকানগুলোতে এই ডিমের হালি আবার ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু তার যথাযথ সুফল ভোক্তারা পাচ্ছে না। আমদানির পরও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাজার ভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। পাইকারি পর্যায়ে আমদানি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকার বেশি দামে, যা আড়ত হয়ে খুচরা পর্যায়ে এসে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। সরকারি ও খাত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছর কৃষকরা ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। এর সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যয় কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা যোগ হয়ে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এ বছর মে মাসে হিমাগার থেকে প্রতি কেজি আলু ২৬ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রি হয়, যা পরবর্তী সময়ে বাড়তে থাকে। বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে ৩৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বেঁধে দেন। তাতে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আলুডিমপেঁয়াজবাণিজ্য মন্ত্রণালয়বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি