মোস্তাফিজ এখনও শিখছেন…

মোস্তাফিজুর রহমানের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক ২০১৫ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেসময় তার স্লোয়ার-কাটার বিস্ময় ছড়ায়! মাস দুই পরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই নেন ৫ উইকেট। মিরপুরের সেই ম্যাজিকে তার নামই হয়ে যায় কাটার মাস্টার ফিজ।

পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে পেতে থাকেন সুযোগ, মেলে ধরেন প্রতিভার সবটুকু। আইপিএলে প্রথমবার যেয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। জাতীয় দলে তো ততদিনে থিতুই হয়ে গেছেন মোস্তাফিজ।

অবশ্য দিন যতো গড়িয়েছে, বোলিংয়ে চিরচেনা সেই রূপ হারিয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজ। একসময় বৈচিত্র্য ময় যেসব ডেলিভারির জন্য বিশ্বব্যাপী বোদ্ধা-বিশ্লেষকদের প্রশংসায় ভেসেছেন, ধার হারিয়েছে সেসব ম্যাজিক। অন্যদিকে তার সমসাময়িক ও কাছাকাছি সময়ে যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন, তাদের অনেকেই বহুদূর এগিয়ে গেছেন। সেখানে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন কাটার মাস্টার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচের আগে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে মোস্তাফিজের কাছে প্রশ্ন রাখেন। আগের সেই রূপে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না প্রশ্নের মুখে পড়েন, ফিজ অবশ্য সেটি মেনে নিতে নারাজ।

‘আপনারা না পেতে পারেন। আমার দিক থেকে মনে করি অস্ত্রোপচার করানোর পর হয়তো এক-দেড় বছর পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। তবে শেখার শেষ নেই। প্রতিদিনই শেখা যায়। আমিও চেষ্টা করছি আরও উন্নতি করতে, যেন বিশ্বের অন্য ভালো বোলারদের মতো হওয়া যায়। ফিটনেসে উন্নতি আনা বলেন, কোচদের পরামর্শ নেয়া বলেন- শিখছি আমি এখন।’

অ্যাওয়ে কন্ডিশনে তেমন ভালো পারফর্ম করতে দেখা যাচ্ছে না মোস্তাফিজকে। সেটির উত্তরে জানালেন এশিয়ান উইকেটের সঙ্গে পার্থক্যের কথা।

‘এশিয়ান উইকেট একরকম। এশিয়ার বাইরের উইকেট আরেক রকম। বাইরের উইকেট খুবই ভালো থাকে। আমার মনে হয় এটা একটা কারণ হতে পারে। চেষ্টা করি সেরাটা দেয়ার সবসময়ের জন্য। এশিয়ার মধ্যে দেখবেন ১৫০ রান করতে, আর এশিয়ার বাইরে ২০০ রানও নিরাপদ নয়। আমার যেটা মনে হয়, এই কারণে ইকোনমি রেট বাড়তে পারে।’

ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে মোস্তাফিজ মোটামুটি ভালোই করছিলেন। উইন্ডিজে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে ছিলেন খরুচে। সেটি নিয়ে ফিজের ব্যাখ্যা, ‘এখানকার উইকেটটা অনেক ভালো। সেখানে যদি অন্যকেউ থাকত, তাহলে দুইশর কাছাকাছি রান করত। আমরা একটু বাজে বলও করেছি। আমরা চেষ্টা করবো কীভাবে আরও ভালো করতে পারি।’

পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড বোলারদের নিয়ে আলাদাভাবে মিটিং করেছেন। কাটার মাস্টার জানালেন, তারা যেভাবে বোলিং করেছেন তা কীভাবে আরও ভালো করা যায় সেটা নিয়ে কথা বলেছেন সাউথ আফ্রিকান কিংবদন্তি।

‘সাদা বলে মাত্র দুটি সেশন করেছি, বিশেষ করে টি–টুয়েন্টি নিয়ে। আর ওয়ানডের জন্য কাজ করেছি সাউথ আফ্রিকায়। খুব বেশিদিন এখনো ওনাকে পাইনি। তবে কোচের পরিকল্পনাগুলো খুব সুন্দর।’

বিজ্ঞাপন

ডোনাল্ডবাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজমোস্তাফিজলিড স্পোর্টস