‘সবাই মিলে আমাদের করণীয় ঠিক করবো’

সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা ‘শনিবার বিকেল’ এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

প্রায় তিন বছর ধরে দেশের সেন্সরের গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি। ‘চলচ্চিত্রটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে’ –এমন আশঙ্কায় মুক্তি আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড।

বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে সেই সময়েই আপিল করে চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। আপিলের পর ছাড়পত্রের বিষয়ে দীর্ঘ দিনেও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সেন্সর বোর্ড।

সম্প্রতি ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে সরব হয়েছেন দেশের নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত কয়েক দিন ধরে ‘শনিবার বিকেল’ এর পোস্টার শেয়ার করে তারা সেন্সর বোর্ডের উদ্দেশে সিনেমাটি মুক্তির অনুরোধ জানাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকায় সমালোচনার পাশাপাশি প্রতিবাদও করছেন অনেকে।

‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি চেয়ে শোবিজ অঙ্গনের অসংখ্য মানুষের যুথবদ্ধ প্রতিবাদ মন কেড়েছে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। আপ্লুত হয়ে এই নির্মাতা মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন,‘এই দুইদিনে আমার ফেলো ফিল্মমেকাররা শনিবার বিকেল মুক্তির দাবিতে যেরকম স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সোচ্চার হয়েছে তাতে বহুবারই আমার চোখ ভিজেছে। সাধারণত এইসব প্রতিবাদ অর্গানাইজ করতে হয় ফোন করে, মিটিং করে। কিন্তু আমি তো কাউকে ফোন করি নাই, কথাও বলি নাই। তারপরও আপনারা/তোমরা যেভাবে পাশে দাঁড়াইছো/দাঁড়াইছেন তাতে বহুবার চোখ ভিজেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইউ মেড মি ফিল আই অ্যাম নট অ্যালোন, আই অ্যাম ওয়ান অব ইউ। দিস ইজ ওয়ান অব দ্য বেস্ট ডেজ ইন মাই লাইফ। লাভ ইউ অল! লেটস স্টে টুগেদার এন্ড অফার সাপোর্ট হোয়েনেভার এনি ফিল্মমেকার নিডস ইট।’

বুধবার সন্ধ্যায় ‘টেলিভিশন’ খ্যাত এই নির্মাতা আরও একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘শনিবার বিকেল নিয়ে সেন্সর বোর্ডের অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী-কলাকুশলী এবং সাধারণ দর্শকরা যেভাবে সোচ্চার হয়েছেন সেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য আশা জোগায়। এটা বলে যে, আমরা সজাগ থাকলে চাইলেই একটা অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যাবে না।’

‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে এই নির্মাতা আরও লিখেন, ‘আজকে সকাল থেকে অনেকে জানতে চেয়েছেন, আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা কী। এর উত্তরে বলতে চাই, গতকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তথ্য সচিব সাহেব বলেছেন, তিনি এই ব্যাপারটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। এবং কেনো এই বিষয়টা তিন বছর ঝুলে আছে সেটাও উনার ঠিক বোধগম্য হয়নি। এখন যেহেতু উনি জেনেছেন, উনি এই বিষয়টা দেখবেন। আমরা উনার উপর আস্থা রেখে অপেক্ষা করতে চাই কয়েকটা দিন। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সবাই মিলে আমাদের করণীয় ঠিক করবো।’

দেশে মুক্তির অনুমতি না পেলেও ‘শনিবার বিকেল’ ইতোমধ্যে মিউনিখ, মস্কো, সিডনি, বুসান, প্যারিসের ভেসুল ফিল্ম ফেস্টিভালসহ বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এবং প্রশংসিত হয়েছে। এরমধ্যে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে ছবিটি দুটি ইন্ডিপেনডেন্ট জুরি পুরস্কার অর্জন করে।

জাজ মাল্টিমিডিয়া, ছবিয়াল ও ট্যানডেম প্রোডাকশন প্রযোজিত ‘শনিবার বিকেল’ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ১২টি দেশের স্বনামধন্য অভিনেতারা। যার মধ্যে আছেন ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি, ইউরোপের এলি পুসো, সেলিনা ব্ল্যাক, বাংলাদেশি অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাহিদ হাসান, মামুনুর রশীদ এবং ভারতের অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপের এলি পুসোইয়াদ হুরানিজাহিদ হাসাননুসরাত ইমরোজ তিশাপরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ফারুকীমামুনুর রশীদমোস্তফা সরয়ার ফারুকীলিড বিনোদনশনিবার বিকেলসেন্সর বোর্ডসেলিনা ব্ল্যাক