অশ্রুভেজা চোখে বিদায় নিলেন ফেদেরার

তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় রজার ফেদেরার। টেনিস কোর্ট থেকে বিদায় নেয়ার মুহূর্তে তিনি কাঁদলেন এবং কাঁদালেন। নিজের স্ত্রীকে চুমু খেলেন, সন্তানদের জড়িয়ে ধরলেন। পরিবারের সদস্যদের পর ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাওয়া নোভাক জোকোভিচ ও রাফায়েল নাদাল তাকে এসে জড়িয়ে ধরলেন। শিশুদের মতো কাঁদলেন নাদাল। বারবার চোখ মুছছিলেন জোকোভিচ। প্রতিপক্ষের বিদায়ে কোনো খেলোয়াড়ের এমন আবেগি হওয়ার দৃশ্যই প্রমাণ করে, ফেদেরারই আসলে টেনিস কোর্টের ‘রাজা’। 

বিদায় বেলায় পুরো কোর্ট চক্কর দিলেন। হাত নেড়ে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন কিংবদন্তি রড লেভার। এরপর সম্মান প্রদর্শনের বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাদাল ও জোকোভিচ। তাদের এক সময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে কাঁধে চড়ে বিদায় সম্ভাষণ জানালেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ছিল বেদনার এক দিন। ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে সেদিন অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০ বারের গ্রান্ড স্লাম জয়ী সুইস সেনশেসন। তিনি এও জানিয়েছিলেন, চলতি মাসে লন্ডনে লেভার কাপে খেলার পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিস টুর্নামেন্টে তাকে আর দেখা যাবে না।

শুক্রবার তিনি শেষবারের মতো কোর্টে নামলেন। দ্বৈত ইভেন্টে সতীর্থ হিসেবে নাদালকেও পেলেন। গ্যালারির দর্শকরা বারবার ফেদেরারকে নিয়ে হয়েছে উদ্বেলিত। বয়স, চোট এবং জয়খরা- এই তিনে ভুগে আগের সেই ক্ষিপ্রগতির ফেদেরারের দেখা মেলেনি। হাঁটুর চোট বারবার ভোগাচ্ছিল। তবু দর্শকদের মাঝে ছিল না আক্ষেপ। সকল ভালোবাসা উজাড় করে দিতেই তারা হয়েছিলেন হাজির।

শেষবার প্রিয় তারকাকে র‍্যাকেট হাতে নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য মেলাতেই যেন তাদের জীবন হয়েছে ধন্য। সকলের মাঝে ছিল শুধু একটাই আফসোস, কিংবদন্তির ছোঁয়া আর কখনোই পাবে না টেনিস।

ফেদেরার-নাদাল জুটি প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্যাক সক ও ফ্রান্সিস টিয়াফোকে পেয়েছিলেন। প্রথম সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেন ফেদেরার-নাদাল জুটি। পরের সেটে তারা টাইব্রেকারে ৭-৬(৭-২) ব্যবধানে হারেন। শেষ সেটে তারা টাইব্রেকারে ১-০ (১১-৯) সেটে হেরে যান। তাই জয় দিয়ে বিদায়ের উপলক্ষ রাঙাতে পারেননি ফেদেরার। তবু ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার মুহূর্তের কাছে জয়-পরাজয়ের হিসাব ছিল অতি তুচ্ছ।

সবসময়ের মতো মাথায় সাদা ফেট্টি বেঁধে শেষবার ম্যাচ খেলা ফেদেরার বলেন, এটি একটি চমৎকার দিন। ছেলেদের বলেছিলাম আমি আনন্দিত, দুঃখিত নই। সব আয়োজন অবিশ্বাস্য হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ। আসলে আমার ধন্যবাদ জানানোর অনেক মানুষ রয়েছে। একতা দারুণ রাত ছিল, সবাইকে ধন্যবাদ।

ছেলে-মেয়েরা, আমার স্ত্রী অনেক সমর্থন করেছেন। সে আমাকে অনেক আগেই আমার খেলা থামাতে পারতো। তবে সে তা করেননি। সে আমার খেলা চালিয়ে যাওয়াকেই সমর্থন করেছে। আমাকে খেলতে দিয়েছে। এটা আশ্চর্যজনক। তোমাকে ধন্যবাদ।

পরে আবেগ সামলে রসিকতা করে ফেদেরার বলেন, পেশির ইনজুরিতে না পড়েই ম্যাচ শেষ করতে পারায় আমি আনন্দিত। পরে তিনি যোগ করেন, পরিবার, সন্তান ও বন্ধুদের আমার সাথে থাকায় ম্যাচ চলাকালীন চাপ অনুভব করিনি।

ফেদেরার স্ত্রী মিরকা, চার সন্তান, বাবা-মা রবার্ট এবং লিনেট গ্যালারিতে বসেই ম্যাচ দেখেছিলেন। ব্রিটিশ টেনিস তারকা অ্যান্ডি মারে, হলিউড অভিনেতা হিউ গ্রান্ট এবং ভোগ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আনা উইন্টুরসহ আরও অনেক তারকাই স্মরণীয় মুহূর্তে সাক্ষী হতে ভুল করেননি। বর্তমান বিশ্বের নাম্বার ওয়ান কার্লোস আলকারাজ এবং ইগা সুয়াটেক টেলিভিশনে ম্যাচটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে টুইটারে নিজেদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান।

বিজ্ঞাপন

জোকোভিচজ্যাক সকটেনিসনাদালফেদেরারফ্রান্সিস টিয়াফোমারেমিরকালিড স্পোর্টসলেভার কাপ