বেকহ্যামকে নিয়ে কোহলির ৫০তম দেখে প্রশংসায় ভাসালেন শচীন

গ্রুপপর্বে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৯তম সেঞ্চুরি করে শচীন টেন্ডুলকারকে ছুঁয়েছিলেন বিরাট কোহলি। সেমিতে শচীনকেও ছাড়িয়ে গেছেন, শচীনের ঘরের মাঠ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শচীনকে গ্যালারিতে রেখেই। ওয়ানডেতে রেকর্ড ৫০তম শতকের সাক্ষী হয়ে কোহলিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার।

এদিন গ্যালারিতে ছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম, কোহলির জীবনসঙ্গী বলিউড তারকা আনুশকা শর্মা। গ্যালারিতে ছিল নানা অঙ্গনের তারকার ঢল। কোহলি শতক ছোঁয়ার পর শচীন হাততালিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাস্যোজ্জ্বল বদনে।

পরে অভিনন্দন বার্তায় শচীন লিখেছেন, ‘ভারতীয় ড্রেসিংরুমে প্রথম আমি যখন তোমাকে দেখেছিলাম, আমার পা ছুঁয়ে তুমি অন্যদের সাথে মজা করছিলে। সেদিন আমার হাসি থামাতে পারছিলাম না। কিন্তু খুব দ্রুত তুমি আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেছিলে তোমার প্যাশন ও দক্ষতা দিয়ে। আমি খুব খুশি যে সেই ছোট ছেলে ‘বিরাট’ খেলোয়াড় হিসেবে বড় হয়ে গেছে।’

‘একজন ভারতীয় আমার রেকর্ড ভেঙেছে, এরচেয়ে খুশির আর কী হতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের সেমিফাইনালে এটা করতে পারা এবং সেটা আমার ঘরের মাঠে আইকনিক হয়ে থাকবে।’

ভারতের ইনিংস শেষে কথা বলেছেন কোহলিও। বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে থেমে গেছি। আবারও, অসাধারণ মানুষটি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে অনেক ভালো লাগছে। আমাদের জন্য বড় ম্যাচ এবং আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। যাতে আশপাশের সবাই তাদের ভূমিকা রাখতে পারে। আমি যেটা বলেছি, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, দলের জয়। আসরে আমাকে একটি ভূমিকা দেয়া হয়েছে এবং আমি সেটা বড় করার চেষ্টা করছি। সেটাই ধারাবাহিক সাফল্যের মূল রহস্য- পরিবেশ অনুযায়ী খেলা, দলের জন্য খেলা।’

‘শচীন পাজি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল। এ অবস্থাটা বর্ণনা করা আমার জন্য কঠিন। আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার হিরো সেখানে বসে আছে। এবং ওয়াংখেড়ের সকল দর্শক। শ্রেয়াসকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। রাহুল অসাধারণভাবে শেষ করেছে।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ শচীনের আরও দুটি রেকর্ড ভেঙেছেন কোহলি। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭২তম ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন, ৫৯ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে সেসময় ছিল চারটি চারের মার। ফিফটি পূর্ণ করে সাকিব আল হাসান ও শচীন টেন্ডুলকারকে টপকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের মালিক হয়ে যান কোহলি।

আসরে এপর্যন্ত কোহলির পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের সংখ্যা ৮টি। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটি। ২০০৩ বিশ্বকাপে ছয়টি ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছিলেন শচীন। ২০১৯ বিশ্বকাপে পাঁচটি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরিতে শচীনের পাশে নাম লেখান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

সেই রেকর্ডের কিছুপর শচীনের আরও একটি রেকর্ড ভেঙেছেন কোহলি, এক আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেছেন ভারতের টপঅর্ডার ব্যাটার। বিশ্বকাপে এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক এতদিন ছিলেন শচীন। ২০০৩ বিশ্বকাপে ১১ ইনিংসে ছয় ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে করেছিলেন ৬৭৩ রান। ২০ বছর পর শচীনের রেকর্ডটি ভাঙলেন কোহলি। ওয়াংখেড়েতে সেমিতে নামার আগে শচীন থেকে ৭৯ রান দূরে ছিলেন। ৩৪ ওভারের চতুর্থ বলে ৮০ রানে পা দিয়ে শচীনকে ছাড়িয়ে যান। এই আসরে কোহলির মোট রান এখন ৭১১।

ওয়াংখেড়েওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩ সেমিলিডকোহলিনিউজিল্যান্ডবাংলাদেশভারতমুম্বাইলিড স্পোর্টসশচীনসাকিব