আগুন সন্ত্রাসীদের হুকুমদাতা কুলাঙ্গারকে ধরে এনে শাস্তি দেব: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আগুন সন্ত্রাসীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রত্যয় পুণর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এরমধ্যে জড়িত, যারা হুকুমদাতা, তারা দেশেই থাকুক আর বিদেশেই থাকুক। তাদেরকে আমরা বিচারের আওতায় নিয়ে আসব। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি আর সেই সুযোগ ব্যবহার করে বিদেশে বসে হুকুম জারি করে! বিদেশ থেকে ধরে এনে ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশে শাস্তি দেব ঐ কুলাঙ্গারকে। কেউ ছাড় পাবে না।

বিজ্ঞাপন

অবিলম্বে বিএনপি ও জামায়াতসহ তার শরিকদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, ‘যদি তারা এটা বন্ধ না করে, তাহলে আমরা খুব ভালো করেই জানি কীভাবে তাদের থামাতে হবে। হ্যাঁ আমরা তা জানি।’

শনিবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশ এবং ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট) নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন:অগ্নিসন্ত্রাসীদের (বিএনপি) প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে তাদের আগুনে নিক্ষেপ করে উচিত শিক্ষা দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বিএনপিকে অগ্নিসন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা নগরবাসীসহ দেশবাসীকে এই অগ্নিসন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রয়োজন হলে তাদের ধরে ওই আগুনে নিক্ষেপ করুন। যে হাত গাড়ি পোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেই হাত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাহলে তারা কিছু শিক্ষা পাবে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, অগ্নিসংযোগ ও মানুষকে পুড়িয়ে ফেলা বিএনপি ও তার মিত্রদের জন্য উৎসবের মতো। এটাই তাদের আসল চরিত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তাদের আন্দোলন মানেই অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং সবকিছু ধ্বংস করা।ইনশাল্লাহ দেশের জনগণ আগামীতেও নৌকায় ভোট দেবে এবং আমরা জনগগণের সেবা করে যাব।’
‘এবার নৌকা জিতবেই’ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

আগামী সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে এবং যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হবে উল্লেখ করে তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচনে কাকে নমিনেশন দেওয়া হবে সেটা আমরাই ঠিক করে দেব। যাকে নমিনেশন দেব ঐক্যবদ্ধ ভাবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে, যেন আবার আমরা এ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি।

তিনি বলেন, এখনও অনেক উন্নয়ন কাজ বাকী। সেগুলো যেন সম্পন্ন করতে পারি। কারণ, অগ্নিসন্ত্রাসি এবং জঙ্গিবাদিরা ক্ষমতায় এলে এদেশকে আর টিকতে দেবে না। সেজন্যই জনগণের স্বাথের্, জনগণের কল্যাণে সকলকে ঐক্যবব্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, একমাত্র নৌকা মার্কাই পারে স্বাধীনতা ও উন্নয়ন দিতে। এই নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের জন্য তিনি সকলের প্রতি বিশেষ করে ঢাকাবাসী মানুষের প্রতি তার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এই নৌকা মার্কায় ভোটি পেয়েছিলাম বলেইতো এত উন্নতি হয়েছে সেই কথাটা যেন তারা মনে রাখেন।

তিনি তার দল যাকেই মনোনয়ন দেয় তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে ঢাকাবাসীর প্রতিশ্রুতি কামনা করলে সকলে দুইহাত তুলে সমস্বরে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি সকলের দোয়া চেয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা দলের সবাই ঐকবদ্ধ থাকবেন এবং ঘাতকের দল, সন্ত্রাসি দল বিএনপি এবং যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াত-এরা যেন এদেশের মানুষকে আর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারতে না পারে। অত্যাচার করতে না পারে। তার জন্য সজাগ থাকতে হবে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

বার বার তাকে হত্যার প্রচেষ্টায় তিনি ভীত নন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি এবং বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। আমার হারাবার কিছু নেই আবার পাওয়ারও কিছু নেই। একটাই লক্ষ্য এই দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আতিক প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা