অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে নতুন সরকারের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংক তাদের পূর্বাভাসে বলছে: বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি আগের অবস্থায় ফেরার আগে ২০২৪ অর্থ বছরে কমে ৫.৬ শতাংশে দাঁড়াবে এবং স্বল্প মেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি উর্ধ্বমুখী থাকবে। তবে মধ্য মেয়াদে আমদানি মূল্য স্থিতিশীল হলে এটি ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। অর্থনীতির জন্য যখন এমন অবস্থা তখন ৭ জানুয়ারির রাজনৈতিক বিভক্তি ঘিরে চরম রাজনৈতিক বিভক্তি শঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকরা বলছেন: অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সরকারই পুনরায় ক্ষমতায় আসুক বা নতুন কোন দল ক্ষমতায় আসুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির অনিশ্চয়তাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন: রাজনীতি ঠিক না থাকলে অর্থনীতি ঠিক থাকবে না। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের সময় বিদেশি সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। এবার আছে। এ বছর অন্য দুবারের মতো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। নির্বাচনের পরও যে শান্তিতে থাকবো, সে কথাও বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, রিজার্ভ কমে যাওয়া, বিনিময় হার—এসব নিয়ে চাপে আছে অর্থনীতি। আইএমএফ এসব বিষয়ে সংস্কার করতে বলেছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে এসব সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশেই থাকবে। বিনিময় হার কোথায় ঠেকবে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পরেও যে এসব সংস্কার হবে, সেই দিকনির্দেশনাও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বড় ধরনের সংস্কার করতেই হবে।

বিজ্ঞাপন

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলছেন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আর চড়া মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে ঘুরে দাঁড়াবে।নিবার্চনী অনিশ্চয়তা কেটে গেলে বাড়বে প্রবাসী আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ও বাড়বে।

গভর্নরের মতে, রিজার্ভ সংকট আর মূল্যস্ফীতি এখন বড় সমস্যা। তবে আছে সমাধানের পথও। সেই পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর বলেন: দুইটা বিষয়ে আমরা চাপের মধ্যে আছি, একটা হলো মূল্যস্ফীতি আর আরেকটি ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য এখন যেটা করছি, সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফান্ডিং একদম বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের পলিসি রেট বাড়িয়েছি। আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই মুহূর্তে আমাদের রিজার্ভ আছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। ইউএস ফেড: বলেছে, তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত পলিসি রেট বাড়াবে না। যদি না বাড়ায় তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, ইউএস ফেডের রেট আর বাড়বে না। আমরা ইন্টারেস্ট রেট দিয়ে ডলার এখানে আনতে পারবো।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় নিবার্চন এলেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে দূর হবে সেই অনিশ্চয়তা। গতি বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ে। সেই আশা গভর্নরের।

দেশে জিনিসপত্রের বাড়তি দাম। বিশ্ববাজারেও খাদ্য ও সেবার দাম আকাশ ছোঁয়া। ডলার সঙ্কটে ঋণপত্র খুলতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই অবস্থায় কেমন আছে অর্থনীতি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন: আমরা যদি কৃষি উৎপাদন বলি, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারও উৎপাদন ভালো হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনডেক্স নিয়ে আমাদের হাতে যে তথ্য রয়েছে, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমরা মনে করি এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ এর ওপরে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আব্দুর রউফ তালুকদারড. আহসান এইচ মনসুরপিআরআইবাংলাদেশ ব্যাংকবিশ্ব ব্যাংক