বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচন চায় না: হাছান মাহমুদ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচন চায় না এবং এই দুই শীর্ষ নেতা আর কাউকে নেতা বানানোর জন্য বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে দিতেও চায় না।

তিনি আজ ৩ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ক্যাবল অপারেটরস এসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ (কোয়াব) প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়ার নির্দেশে এফবিআই’য়ের এজেন্ট লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। পরে সেই চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়, সেই এজেন্টের এখন বিচার হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার আমলে নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির কাছ থেকে কিছু কম্পিউটার কেনার চুক্তি হয়েছিলো। সেই কোম্পানির নাম কেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার কন্যা ‘টিউলিপ’ নামের সাথে মিল, সে জন্য সেই চুক্তি তারা বাতিল করেছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছে, জিয়াউর রহমানের পথ ধরে বেগম খালেদা জিয়াও তাদেরকে আবার পুনর্বাসিত করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিন নিজের মিথ্যা জন্মদিন পালন করে কেক কেটেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মদদ দিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দায়ের করেছেন, সেই চরম প্রতিহিংসা পরায়ণ বেগম জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহানুভবতা দেখিয়ে চলেছেন তা নজিরবিহীন।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ‘আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকার বেগম জিয়াকে বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে’ এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনভাবেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। আর তারা যদি তা মনে করে তাহলে তো আদালতে যেতে পারে। আর বেগম জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তার কি পরিমাণ দম্ভ, অহমিকা, যে তার পুত্রবিয়োগে সমবেদনা জানাতে তার বাড়ির দুয়ারে দেশের প্রধানমন্ত্রী গিয়ে ২০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি দরজা খোলেননি। তার আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দায়ের করা হয়েছিলো, আমাদের সরকার তো খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করে নাই। তার বিরুদ্ধে সবগুলো মামলা সেনা সমর্থিত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলের। সেই সব মামলার বিচার হচ্ছে, তাতেই তিনি সাজা খাটছেন।

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহিত ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ ও ছাত্র-ছাত্রীদের বাসে পৃথকভাবে বসার নির্দেশ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, আমি কাগজে খবরটা দেখেছি, এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে জেনে খুব আশ্চর্য হয়েছি। ছাত্রীরা বিয়ে করলে হলে থাকতে পারবে না এমন সিদ্ধান্ত আমার দৃষ্টিতে একেবারেই অযৌক্তিক।

কোয়াব প্রেসিডেন্ট এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজামুদ্দীন মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল আলম শামীম এবং লুৎফর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কোয়াবখালেদা জিয়াতথ্যমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুশেখ হাসিনা