টেস্ট সংস্কৃতির দিকে আঙুল তুললেন সাকিবও

অ্যান্টিগার পর সেন্ট লুসিয়া টেস্টেও বড় হার। বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার সঙ্গে শততম হারের স্বাদও দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে পেছনে ফিরে তাকিয়েছেন সাকিব আল হাসান। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মতো প্রশ্ন তুলেছেন দেশের টেস্ট সংস্কৃতি নিয়ে। অধিনায়ক জানিয়েছেন পরিত্রাণের উপায়ও।

২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এপর্যন্ত ১৩৪ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। পেয়েছে দ্রুততম একশতম হারের ক্ষত। এসময়ে ড্র করেছে ১৮ টেস্ট এবং টাইগারদের জয় ১৬টি। নড়বড়ে ব্যাটিং, ধুঁকতে থাকা বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ের অসংখ্য প্রমাণ থাকলেও সাকিব খেলোয়াড়দের দোষ দিতে রাজি নন। তার মতে, সমস্যাটা আসলে দেশের টেস্ট সংস্কৃতিতেই।

‘খেলোয়াড়দের খুব বেশি দোষ দেয়া ঠিক হবে না। শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলে হবেও না। আমাদের দেশের সিস্টেমটাই এমন। কবে দেখেছেন বাংলাদেশে ৩০ হাজার দর্শক টেস্ট ম্যাচ দেখছে বা ২৫ হাজার দর্শক মাঠে এসেছে টেস্ট দেখতে? ইংল্যান্ডে প্রতি ম্যাচেই এরকম দর্শক থাকে। টেস্টের সংস্কৃতিটাই আমাদের দেশে ছিল না কখনো, এখনো নেই।’

এখন নেই বলে কখনও হবে না— এমন ভাবনার বিরোধী সাকিব। তিনি মনে করেন, দেশের মাটিতে খেলা টেস্টগুলোর ফল নিজেদের দিকে টানতে পারলেই পরিত্রাণ। হোক সেটা ড্র বা জয়, এমন ফল আসলে সফরেও টেস্ট জিততে না পারলে অন্তত লড়াইটা চালাতে পারবে বলেই বিশ্বাস টেস্ট অধিনায়কের।

সেন্ট লুসিয়ায় তৃতীয় মেয়াদে অধিনায়কত্বের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে ভরাডুবির পর সাকিব ঘুরেফিরে দেশের টেস্ট সংস্কৃতি নিয়েই বেশি বলেছেন, ‘টেস্ট সংস্কৃতি নেই বলে যে হবে না, সেটা কিন্তু নয়। এই জিনিসটা পরিবর্তন করাই আমাদের বড় দায়িত্ব। সবাই মিলে যদি পরিকল্পনা করে আগানো যায়, হয়তো কিছু সম্ভব হবে। নইলে আসলে খুব বেশিদূর আগানো সম্ভব হবে না। আমাদের টেস্টের সংস্কৃতিই নেই।’

ক্যারিবিয়ান ডেরায় সাদা পোশাকে নাকানি-চুবানি খাওয়ার বিষয়টি অবগত ছিলেন সাকিব। উত্তরণের উপায়ও খুঁজেছেন, দিয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস। বলেছেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম টেস্ট সিরিজটি কঠিন হবে। লম্বা সময় পর আমরা টেস্ট সিরিজ খেলবো। আশা করি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। আমি ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত নই। মানসিকভাবে আমাদের দৃঢ় হতে হবে।’

উইন্ডিজ মুলুকে দুটো টেস্টেই মিলেছে হতাশা। ভুলের ছড়াছড়ি থাকার পাশাপাশি ছিল নানা আক্ষেপ। ইনিংস হার এড়াতে ধুঁকতে হয়েছে দুবারই। ভালো কিছুর আশ্বাস দিয়েও শেষদিন পর্যন্ত লড়তে পারেনি দল। এতকিছু না পাওয়ার মাঝে টেস্ট অধিনায়কের পাওয়া পেসারদের ভালো করা। লাল বলের সিরিজ হারলেও সাদা বলে খেলা জমবে বলেই সাকিবের বিশ্বাস।

‘গত ৩-৪ বছরে আমরা এই (পেস বোলিং) বিভাগে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছি। ম্যাচ জিততে হলে আমাদের দল হিসেবে পারফর্ম করতে হবে। সাদা বলে আমরা লড়াকু দল এবং আমরা নিশ্চিত সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে।’

বিজ্ঞাপন

ডমিঙ্গোবাংলাদেশ টেস্ট দলবাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজলিড স্পোর্টসসাকিব