‘হাই প্রেসিং’ ফুটবল খেলে সাবিনা-আঁখিদের বাজিমাত

‘র‍্যাঙ্কিং আসলে কিছু কিছু সময় ম্যাটার করে। আবার কিছু কিছু সময় করে না। আমাদের মনে হয় মাঠের পারফরম্যান্সটাই আসলে ম্যাটার।’ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে কথাগুলো বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। কথাগুলো শুধু মুখের কথা থাকেনি, মাঠেও প্রমাণ হয়ে গেছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬১ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষকে ৬-০ গোলে নাস্তানাবুদ করেছে তার দল।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণে অতিথি দল হয়ে পড়েছিল দিশেহারা। গোল হজমের পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের পেয়ে বসেছিল একই পরিণতির শঙ্কা। মারিয়া-আঁখিদের জাদুময় এক পারফরম্যান্স।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানি জানালেন, খেলার কৌশল ফলাফল নির্ধারণে রেখেছে ভূমিকা। হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে তার মেয়েরা বাজিমাত করেছে।

‘হাই লাইন প্রেস করেই আক্রমণে যাবো, এই কৌশলে খেলেছি। মেয়েরা পুরোটা সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার মধ্যে ছিল। কমলাপুরের এই মাঠে মেয়েরা সব সময় দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে।’

২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ বছর পর সেই দলের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জয় ছোটনকে সন্তুষ্ট করেছে। কোচ অবশ্য তখনকার সঙ্গে এখনকার পার্থক্যটা তুলে ধরলেন।

‘বাংলাদেশের ওই দলের সব খেলোয়াড় নতুন ছিল, বয়স কম ছিল। স্বপ্না সে ম্যাচেও ভালো খেলেছিল, কিন্তু গোল পায়নি। কয়েক বছরে এত এত ম্যাচ খেলে মেয়েরা অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। তাদের বয়স বেড়েছে এবং মেয়েরা এখন পরিণত। কাজ আমরা প্রতিনিয়তই করছি।’

স্কোরলাইন বলছে ৬-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। বেশকিছু সুযোগ নষ্ট না হলে সেটি আরও বড় হতে পারত। প্রতিপক্ষ তুলনামূলক বিচারে শক্তিশালী হলেও দাপট ছিল স্বাগতিকদেরই। কোচ ছোটন এমন জয়ের পরও তাই বললেন, ‘কাজ করার অবশ্যই আরও জায়গা আছে।’

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ছোটন সরাসরি জয়ের দাবি করেননি। মেয়েদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে কাজ হয়েছে এবং তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু মনের কোণে জয়ের আশা লুকিয়ে রেখেছিলেন।

‘সবসময় জেতার উপরেই জোর দেই। মেয়েরা উন্নতি করেছে, এটাই সন্তুষ্টির জায়গা। সবচেয়ে ভালো দিক যে, মেয়েরা ৯০ মিনিট খেলার মধ্যে থাকে। আসলে ম্যাচ হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং মেয়েরা উন্নতি করছে। যখন ভুল হয়েছে, তখন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ভুল কম হলেই ভালো করা সম্ভব। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ীই খেলেছি, যার ফলে এই জয়।’

‘মেয়েদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মালয়েশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। তারা অভিজ্ঞ দল। এখানে মেয়েদেরকে কৃতিত্ব ভালোভাবেই দিতেই হবে।’

এমন বড় জয়ের পর সাফের গণ্ডি পেরিয়ে এবার এশিয়ান লেভেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর্যায়ে হয়ত পৌঁছে যাচ্ছে মেয়েরা। ছোটন বললেন, ‘আমরা এখন যে লেভেলে আছি, যেমন মালয়েশিয়া ৮৫তম র‍্যাঙ্কিংয়ে আছে, এমন দলের সঙ্গে খেলা উচিৎ। আমাদের এখন আরও ভালো দলের সঙ্গে খেলা উচিৎ। কারণ খেলোয়াড়দের লেভেলটা আস্তে আস্তে আমরা উন্নতি করাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

আঁখিছোটনফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচবাফুফেবাংলাদেশবাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচমালয়েশিয়ালিড স্পোর্টসসাবিনা