‘বিউটি সার্কাস’-এ সবচেয়ে বেশি নিবেদিত ছিলাম: এবিএম সুমন

সিনেমায় রংলাল চরিত্রটি হতে পারে সুমনের টার্নিং

ঢালিউডের সুঠাম দেহের অভিনেতাদের একজন এবিএম সুমন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিউটি সার্কাস’, ‘হৃদিতা’ ও ‘এমআর নাইন’ (মাসুদ রানা) নামে তিনটি সিনেমা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সুমনের এই তিনটি সিনেমা মুক্তির পর তিনি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারেন।

২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত সরকারি অনুদানে নির্মিত মাহমুদ দিদারের পরিচালনায় ‘বিউটি সার্কাস’। সিনেমায় জয়া আহসানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। এরইমধ্যে ট্রেলার প্রকাশের পর জয়ার পাশাপাশি বাহবা কুড়াচ্ছেন সুমনও!

‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে এবিএম সুমন নিজেও বেশ উচ্ছ্বসিত। বললেন, সমাজে মেয়েদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু একজন নারী স্রোতের বিপরীতে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এখানে নারীর ক্ষমতায়নের দিক দেখানো হয়েছে।

‘বিউটি সার্কাস’ এর একটি দৃশ্যে এবিএম সুমন

সুমন বলেন, সিনেমায় আমার চরিত্র রংলাল। সিনেমার নায়ক বলা যায়। বিউটির পাশে যে মানুষটা তার জীবনে সাহস হয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমার মনে হয় এই চরিত্রটিও ছবিতে ইমপ্যাক্ট ফেলবে।

যুগল নির্মাতা ইস্পাহানী আরিফ জাহানের পরিচালনায় ৭ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে সুমনের আরেক সিনেমা ‘হৃদিতা’। আনিসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদান পাওয়া এই ছবিতে সুমনের বিপরীতে আছেন পূজা চেরী। সুমন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ মিলিয়ে তার আরেক সিনেমা এমআর নাইন (মাসুদ রানা)-এর । আগামী এপ্রিলে মুক্তি পেতে পারে।

‘হৃদিতা’ ছবিতে একজন পেইন্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবিএম সুমন। তিনি বলেন, উপন্যাসটি অনেকের পছন্দের। সেটির একটি সিনেম্যাটিক ভার্সন তৈরি করে হৃদিতা বানানো। সুমন বলেন, তিনটি তিন ধরনের কাজ। জার্নিটাও তিন ধরনের। ‘বিউটি সার্কাস’ এ অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। এটা আমার প্রথম ছবি যেটির প্রতি সবচেয়ে বেশি নিবেদিত ছিলাম। তাই বলা যায় ‘বিউটি সার্কাস’ সবচেয়ে বেশি ইমোশন আছে।

‘বিউটি সার্কাস’ এর একটি দৃশ্যে এবিএম সুমন

তিনি বলেন, ‘হৃদিতা একটু সাহিত্য নির্ভর কাজ। একটা সময়ের প্রেম-বিরহকে এখনকার সময়ের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এমআর নাইন হচ্ছে আমার লাইফের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র। সবসময় ভাবতাম কেউ মাসুদ রানা বানালে আমাকে নিতে মোর দ্যান হ্যাপি হবো। কারণ এটা ছিল আমার ড্রিম। তাই মাসুদ রানা সবচেয়ে রোমান্সকর।’

সিনেমায় এবিএম সুমন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার মাধ্যমে। পার্শ্বচরিত্র করেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ২০১৭ সালের আলোচিত ওই সিনেমার প্রাণ ভোমরা। সেই সিনেমার পর আর সেভাবে পাওয়া যায়নি সুমনকে। কেন?

সুমনের উত্তর, ‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তির কথা কোভিডের আগে। ‘আদি’ নামে একটি সিনেমা করেছিলাম, সেটিও মুক্তি পেল না। ২০১৫ সালে ‘আদি’ মুক্তি পেলে দর্শকের মধ্যে যে প্রভাব ফেলতো এখন আর সেই প্রভাব ফেলবে না। কারণ দর্শক শিকারী, নবাব, আয়নাবাজি ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছে। ‘আদি’ আসার কথা ছিল এসবের আগে। ওটা ছিল আধুনিক সিনেমা। ‘আদি’ দেখার সুযোগ মিস হলো। এরপর ‘দাহকাল’ করলাম। কিন্তু এলো না। ‘এমআর নাইন’ নিয়ে টানা দুই বছর পড়ে ছিলাম। তখন অন্য কাজ করার সুযোগ হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর পর কপালে ছিল না।

তিনি বলেন, ‘কাজ করার পর যখনকার সিনেমা তখন যদি মুক্তি না পায় তাহলে খারাপ লাগা কাজ করে।’

কথায় কথায় জানালেন, সিনেমাটাই ঠিকভাবে করতে চান। বললেন, বিশ্বের অনেক আর্টিস্ট বলে থাকেন যেটা করতে চেয়েছি সেটা স্ক্রিনে আনতে পেরেছি। এতে নাকি অন্যরকম একটা শান্তি কাজ করে। আমিও এটাই চাই। নিজেকে স্ক্রিনে দেখে যতবার হ্যাপি হবো সেটাই হবে সবচেয়ে শান্তির। আমাদের সিনেমা এখন চমৎকারভাবে রাইজ করেছে। কোরিয়ান ফিল্মগুলো ভাষা না বুঝলেও সাবটাটেল দিয়ে যেভাবে দেখি, আমাদের সিনেমাও আগামীতে এমন হবে। ইতোমধ্যে ওটিটি, সিনেমা বাইরের মানুষ পছন্দ করতে শুরু করেছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের সিনেমাও শিগগির বড় ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরিত হবে।

অভিনয়এবিএম সুমনচ্যানেল আইজয়াজয়া আহসানপূজা চেরীমাহমুদ দিদারলিড বিনোদনসিনেমাসুমন