সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারসহ দেড়শ’ রোহিঙ্গা উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার উদ্ধার হয়েছে। ট্রলারে শিশু ও নারীসহ দেড়শ রোহিঙ্গা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। ট্রলারটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তিন দিন ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিল।

টেকনাফ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকালে টেকনাফের সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ট্রলারটি আটকে রাখে। পরে দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা সাগরে ভাসমান ট্রলারকে টেনে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সৈকতে মহেষখালী পাড়া ঘাটে নিয়ে আসে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়। ইতোমধ্যে ট্রলারে থাকা রোহিঙ্গা শিশু ও মহিলারা কান্নাকাটি করে ট্রলার থেকে নেমে পড়ে। পুলিশ ও কোস্ট গার্ড দল আসার আগেই ট্রলার থেকে নামা রোহিঙ্গারা পালিয়ে যায়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জহীর আহমদ মোবাইলে জানান, সাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ভাসমান দেখে জেলারা টেনে কূলে নিয়ে আসে। ট্রলারে দেড়শ মতো যাত্রী ছিল। সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বসবাসকারী। এদের মধ্য বেশির ভাগই নারী ও শিশু ছিল। ঘাটে ওই ট্রলারটি এখনও ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

ট্রলার থেকে নামা এক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, তারা সবাই উখিয়া বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ক্যাম্পের পরিস্থিতি খুব খারাপ প্রতিদিন খুনাখুনি হচ্ছে। সে কারণে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে উন্নত জীবনের আশায় সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিল। ট্রলারে প্রায় দেড়শ জন ছিল।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার টেকনাফে কূলে ফিরে আসার খবর শুনেছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাগর উপকূলে একটি খালি ট্রলার দেখতে পায় পুলিশ। তিনি আরও জানান, পুলিশ পৌঁছার আগেই ট্রলার থেকে নেমে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ কোস্ট গার্ডের স্টেশন কর্মকর্তা লে.কমান্ডার সোলেমান কবির জানান, এ ধরনের একটি সংবাদ আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে যাত্রীবিহীন ট্রলারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আমার খোঁজ খবর নিচ্ছি।

অবৈধ প্রবেশকক্সবাজারটেকনাফমালয়েশিয়ারোহিঙ্গাসাগর পথ