সিলেটে চার-ছক্কার ‘ভয়ঙ্কর’ মহড়া

ম্যাচ শুরু সোমবার দুপুর ১২.৩০মিনিটে

সিলেট থেকে: অনুশীলনেই টের পাওয়া গেল টি-টুয়েন্টির দামামা। ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের উইলোতে। চার-ছক্কার এমন বৃষ্টি সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ঝরবে কিনা সেটি লড়াই মাঠে না গড়ানো পর্যন্ত বলার উপায় নেই। তার আগে দুই দলের ব্যাটসম্যানরা সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুশীলনেই যে মহড়া দিয়ে গেলেন, একরকম ঝড়েরই পূর্বাভাস। আসল লড়াই শুরু সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায়।

রোববার সূর্যের তাপ উষ্ণতা ছড়ানোর আগেই অনুশীলনে নেমে পড়ে বাংলাদেশ। নেটের ২২ গজে মুশফিকুর রহিমকে বল করতে গিয়ে বিপদেই পড়তে যাচ্ছিলেন ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। আগ্রাসী মুশফিকের একটি জোরাল শট মুহূর্তের মধ্যে চলে আসে কুকের বুক বরাবর। বাঁ-হাতে থাকা বেসবল গ্লাভস ছিল বলে রক্ষা পান এ সাউথ আফ্রিকান। ফিল্ডিংয়ে কোচের ওরকম ক্যাচ দেখে পাশে দাঁড়ানো কোচিংস্টাফরা ‘গ্রেট ক্যাচের’ প্রশংসা জুড়ে দেন। ভয়ে আর মুশফিকের সামনেই আসেননি কুক!

সতর্কতা ও কৌশলের কারণে কুক রক্ষা পেলেও দিনের শুরুর আতঙ্কটা বিকেলে রূপ নেয় দুর্ঘটনায়। উইন্ডিজ ওপেনার এভিন লুইসের উড়িয়ে মারা শটে আহত হন বিসিবির মিডিয়া বিভাগের কর্মচারী সালাউদ্দিন।

পূর্বপ্রান্তের নেট থেকে আসা শটে পশ্চিমপ্রান্তে নেটের কাছাকাছি জায়গায় দাঁড়ানো সালাউদ্দিনের মাথায় আছড়ে পড়ে বল। মাঝমাঠ থেকে ওই শট খেললে নিশ্চিতভাবেই গ্যালারির সবচেয়ে উঁচু দর্শকসারিতে গিয়ে পড়ত বল! মাঠে থাকা উইন্ডিজ ফিজিও তাৎক্ষণিকভাবে দেখার পর সালাউদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয় স্টেডিয়ামের মেডিকেল বিভাগের কক্ষে। ঘণ্টাখানেক থাকেন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে।

সকালটাও শুরু হয়েছিল দুশ্চিন্তা সঙ্গী করেই। নেটে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ইয়র্কারে পায়ের আঙুলে চোট নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান সাকিব আল হাসান। অধিনায়কের চোট কিংবা পেসের তোপ, কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারেনি পাশের নেটে ব্যাটিং করতে থাকা মুশফিককে। স্লগ সুইপ যার প্রিয় শট, সেই মুশফিককে দেখা গেল বারবার এগিয়ে এসে তুলে মারতে।

নানা কৌশলী শটের মহড়াও দেখা গেছে। আরিফুল হকের হেলিকপ্টার শট, মুশফিকের স্কুপ, সৌম্য সরকারের পেরিস্কুপ, তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ডাউন দ্য উইকেটে এসে শট। রান বের করার সব উপাদানই ছিল টাইগারদের ব্যাটিং অনুশীলনে।

মাঠের মহড়া হয়ত টের পেয়েছিলেন স্টেডিয়ামের মূল গেটে সোমবারের ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করতে আসা দর্শকরা! টিকিটের জন্য সিলেটের ক্রিকেটপিপাসুদের দীর্ঘলাইন, হট্টগোল, উন্মাদনা বলে দেয় সংস্করণ যত ছোট উত্তেজনার পারদ তত বেশি।

টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের মুঠোয় এসেছে নির্বিঘ্নে। সিলেটে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে জয় এসেছে হেসেখেলে। সাফল্যের পদযাত্রা হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন ইতিহাস। টি-টুয়েন্টি সিরিজও নিজেদের হলে প্রথমবার তিন সংস্করণের পূর্ণাঙ্গ সিরিজে ট্রেবল জয়ের আলিঙ্গন করবে বাংলাদেশ।

২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এপর্যন্ত বিভিন্ন দলের বিপক্ষে ১৪টি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। চৌদ্দবারের মধ্যে কখনোই একসঙ্গে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা। ব্যাট-বলে দাপট দেখিয়ে এবার জোরাল সম্ভাবনা জাগানো বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ার আরও কাছে চলে যেতে পারে পুণ্যভূমি সিলেট থেকেই। জয়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু করে।

প্রত্যাশা পূরণ হলে ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসের নামও লেখা হয়ে যাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটি সাফল্যের পাশে। টাইগার কোচ সম্ভাবনাকে দেখতে চান বাস্তবরূপে, ‘অবশ্যই সম্ভব(সিরিজ জয়)। আমরা নিজেদের সেরা চেষ্টাই করবো। ওদের তিনটা সিরিজেই হারাতে আমাদের খুব ভালো লাগবে। এই দলটি ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ম্যাচ জিতেছে, আমাদের বিপক্ষেও সিরিজে ম্যাচ জিতেছে। ওরা(উইন্ডিজ) কোনো সিরিজ না জিতে ক্যারিবিয়ানে ফিরে যেতে চাইবে না। তাই এটা হবে ভীষণ কঠিন। আমি বাংলাদেশের সব ক্রিকেট ভক্তকে বলতে পারি, তিনটি সিরিজেই জিততে আমরা নিজেদের উজাড় করে দেব।’

টিকিটের জন্য দর্শকের ঢল

আগামী ২০ ও ২২ ডিসেম্বর মিরপুরে সিরিজের শেষ দুটি টি-টুয়েন্টি। উইন্ডিজ দল দেশে ফিরে যেতেই চলে আসবে ক্রিসমাস ডে। বাংলাদেশ থেকে শূন্য হাতে ফিরে গেলে যে নিজ দেশের মানুষের উৎসব মাটি হয়ে যাবে, সেটি মাথায় নিয়েই পছন্দের সংস্করণে জ্বলে ওঠার বাসনা উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের।

‘ক্রিসমাসের একটা উপহার আমাদের কাছ থেকে ডিজার্ভ করে আমাদের দেশের জনগণ। আশা করি টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিতে বছরটা শেষ করতে পারব। টি-টুয়েন্টি আমাদের জন্য আদর্শ সংস্করণ। আমরা নিশ্চিতভাবেই সম্প্রতি ভালো কোনো ফলাফল দিতে পারিনি। বছরটা জয়ে শেষ করার উপলক্ষ ভালভাবে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবো।’

তামিমবাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজমুশফিকসাকিবসৌম্য