শোভন-রাব্বানীর ভাগ্য নির্ধারণ আগামীকাল

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাগ্যে কী হতে যাচ্ছে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও ২৪ ঘণ্টা। শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ বিষয়ে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

তবে, শোভন-রাব্বানী ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন: যে কোনো মুহূর্তে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা আসতে পারে। এ নিয়ে কাজ করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তবে নতুন করে সম্মেলন হচ্ছে না। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মেনে দলীয় সভাপতি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। তবে এ প্রক্রিয়া কী হবে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়।

জানা গেছে, শোভন-রাব্বানীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করার অভিযোগও আছে।

এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেছেন: তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন জাহাঙ্গীর কবির নানক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ষড়যন্ত্রের অভিযোগ যদি করে থাকে তাহলে সেটা হবে বাচ্চাসূলভ আচরণ। তারা যে ফোন ধরে না এ অভিযোগ সত্য। ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে আমাদের দলীয় সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দু-এক’দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন: নেত্রী নিজেই এ বিষয়টি দেখছেন। এখানে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন: তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে কিনা এটা নেত্রীর সিদ্ধান্ত। যতক্ষণ পর্যন্ত এটি কার্যকর না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এটা স্বীকার করবো না।

ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, গত শনিবার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে এক মন্তব্যে বলেন: আমি ছাত্রলীগের এমন নেতা চাই না, যাদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে। ওই সভায় ছাত্রলীগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তোলেন এবং এ আলোচনা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে বলে নিশ্চিত করেন সভায় উপস্থিত একজন শীর্ষ নেতা।

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গণভবনে প্রবেশের পাস সিরিয়ালও বাদ দেওয়া হয়েছে জানিয়েছে গণভবনের একটি সূত্র। উল্লেখ্য, গণভবনে প্রবেশের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাদেরও একটি সিরিয়াল নম্বর দেওয়া থাকতো গণভবনের গেটে। ওই নম্বর বললেই গণভবনে প্রবেশের সুযোগ পেত পারা। রোববারের পর থেকে ওই তালিকা থেকে শোভন-রব্বানীর নাম সরিযে দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়।

আওয়ামী লীগছাত্রলীগপ্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনাশোভন-রাব্বানী