শনাক্তের হার ৩৩ ছাড়াল, মৃত্যু ২০

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ৬৯২তম দিনে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩০৮ জন।

এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৫ হাজার ৮০৭ জন। শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের দিন বুধবার শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ৮০৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জন।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মত এবং গত ২০ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখে বাংলাদেশ। গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‍শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় (অ্যান্টিজেন টেস্টসহ) ৪৬ হাজার ২৬৮টি পরীক্ষায় ১৫ হাজার ৪৪০ জন এই ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন। এই সময়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে শুরু থেকে মোট পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৮৪ লাখ ১১ হাজার ৮১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩টি নমুনা। অর্থাৎ মোট পরীক্ষা করা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৫টি নমুনা। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জন। তাদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩২৬ জনসহ মোট ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৯ জন সুস্থ হয়েছেন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২০ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও ১২ জন নারী। তাদের হাসপাতালে (সরকারি ১৭, বেসরকারি তিন) মৃত্যু হয়েছে। তারা সহ মৃতের মোট সংখ্যা ২৮ হাজার ৩০৮ জন। মোট শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬১ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন ২৪ হাজার ৩৪ জন, যার শতকরা হার ৮৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। বেসরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন তিন হাজার ৪৬২ জন, যার শতকরা হার ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাসায় ৭৭৮ জন মারা গিয়েছেন, যার শতকরা হার দুই দশমিক ৭৫। এছাড়াও মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন ৩৪ জন, যার শতকরা হার দশমিক ১২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৮ জন পুরুষ মারা গেছেন যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ১০ হাজার ২২০ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২০ জনের মধ্যে শূন্য থেকে দশ বয়সী একজন,এগারো থেকে বিশ বয়সী দু’জন, একুশ থেকে ত্রিশ বয়সী একজন, চল্লিশোর্ধ্ব দু’জন, ষাটোর্ধ্ব একজন, সত্তরঊর্ধ্ব সাতজন, আশিঊর্ধ্ব পাঁচজন ও নব্বইঊর্ধ্ব একজন। আর বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগে পাঁচজন, চট্টগ্রাম বিভাগে নয়জন, রাজশাহী বিভাগে দু’জন, বরিশাল বিভাগে একজন সিলেট বিভাগে দু’জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩৬ কোটি ৭৩ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২৭ কোটি পাঁচ লাখের বেশি।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসনতুন শনাক্তমৃতের সংখ্যাশনাক্তের সংখ্যাস্বাস্থ্য অধিদপ্তর