মন্দির নির্মাণের জন্য সরকারি ট্রাস্ট, সুন্নি বোর্ডের জন্য বিকল্প জমি: সুপ্রিম কোর্ট

সুন্নি বোর্ডের জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ৫ একর জমি প্রদানের আদেশ দিয়ে অযোধ্যার রাম মন্দিরের ২.৭৭ একর জায়গা ট্রাস্টের অধীনে যাবে বলে রায় দিয়েছেন ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট। এই জমির জন্য ৩ মাসের মধ্যে সরকারকে ট্রাস্ট গঠন করারও আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাবরি মসজিদ ফাঁকা জায়গায় নির্মিত হয়নি। তার নিচে কাঠামো ছিলো।  এটি ঠিক না যে, তার নিচে মন্দিরই ছিলো।

বিচারপতিরা বলেন, কবে মসজিদ তৈরি হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যেসব জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে সেগুলি নন ইসলামিক। বাবরের সহযোগী মির বাকি এই মসজিদ তৈরি করেছিলেন।

হিন্দুরা রামের জন্মভূমি ছিলো বলেই এটাকে বিশ্বাস করে মন্তব্য করে বিচারপতি বলেন, কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না করে।

রায়ের শুরুতেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নির্মোহী আখড়ার দাবি খারিজ দেন সুপ্রিমকোর্ট।

বিচারপতিরা রায় ঘোষণার জন্য এজলাসে আসেন ১০টায় ১৫ মিনিটে। সাড় ১০টায় রায় পড়তে শুরু করেন ৫ জন বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি ছাড়াও অন্য চার বিচারপতি হলেন বিচারপতি এসএ বোবেদ, ডিওয়াই চন্দ্রচুড়, অশোক ভূষণ এবং আব্দুল নাজের।

টানা ৪০দিনের শুনানি শেষে গত ১৬ অক্টোবর আদালত এই মামলার রায় স্থগিত রাখা হয়। এরপর ওই দিনই উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তারা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

প্রধান বিচারপতি গগৈ ১৭ নভেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। তার আগেই তিনি ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করে যাওয়ার টার্গেট পূরণ করলেন।

রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যাতেই মোতায়েন করা হয় প্রায় ১২ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। জারি করা হয় সতর্কতা। উত্তর প্রদেশের স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ট্রেনিং সেন্টারগুলো শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, রাজস্থান, জন্মু, দিল্লি এবং রাজস্থানেও।

এদিকে সকল রাজ্যকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে উত্তর প্রদেশের পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে লখনৌতে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

রায়ের পর শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

১৯৮০ সাল থেকেই অযোধ্যা ইস্যুটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। অযোধ্যার এই স্থানটিকে হিন্দুরা রামের জন্মভূমি হিসেবে পবিত্র মনে করে থাকেন। অন্যদিকে এখানেই ছিলো ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ। যেটি ১৯৯২ সালে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সে সময় ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

অযোধ্যা মামলাবাবরি মসজিদভারতরাম মন্দিররায়সুপ্রিমকোর্ট