বিদেশে অর্থপাচার হয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা: অর্থনীতি সমিতি

স্বাধীনতার পর থেকে কালোটাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ কোটি টাকা এবং এখন পর্যন্ত বিদেশে অর্থপাচার হয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। আগামী অর্থবছরের জন্য ২০ লাখ ৫০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব প্রকাশ করে এ তথ্য জানান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত। প্রস্তাবিত বাজেট চলতি বাজেটের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুন বড়।

রোববার ঢাকার ইস্কাটনে অর্থনীতি সমিতি কার্যালয়ে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন অধ্যাপক আবুল বারকাত।

অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, বাজেটে বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীনতার পর থেকে কালোটাকার পরিমান ৮৮ লাখ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে যদি এর মাত্র ২% উদ্ধার করা যায় তাহলে ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়া সম্ভব। আর এখন পর্যন্ত বিদেশে অর্থপাচার হয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর ১০% উদ্ধার করা গেলে ৭৯ হাজার ৮৩২ কোটি পাওয়া যাবে। এই অর্থে মানুষের কল্যাণে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব।

অর্থনীতি সমিতি মনে করে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কালো টাকা এবং অর্থ পাচার দুটোতেই রাশ টানা সম্ভব।

বাজেট উপস্থাপনায় ড. আবুল বারকাত বলেছেন, বিপদজনক আয় বৈষম্যের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০৩২ সাল নাগাদ বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ বিপদে পড়তে পারে। তখন বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বাজেট শুরুই হয় টাকা-পয়সাকে মূল লক্ষ্যবস্তু ধরে নিয়ে। আমরা মনে সমাজ নির্মাণে এই পদ্ধতির শুরুটাই ভ্রান্ত। কারণ টাকা-পয়সা কখনো মূল লক্ষ্য হতে পারে না, তা লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হতে পারে মাত্র। আমাদের বাজেট প্রণয়নের কর্মকাণ্ড শুরু হচ্ছে শোভন জীবন নির্মাণে দেশের মানুষের জন্য কী কী প্রয়োজন তা দিয়ে। এর মধ্যে আছে, মানুষের সুস্বাস্থ্য, সুস্থ দীর্ঘায়ু। আমাদের দেশে উন্নয়নের কথা বললে বলা হয়, ৭১ বছর আয়ু। আমরা ৭১ বছর আয়ু গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। এক দিকে জনগণের চাহিদা, অন্য দিকে টাকা-পয়সা। আমরা বাজেট ব্যালেন্সের পক্ষে নই। আমরা অর্থনীতি ব্যালেন্সেরও পক্ষে নই। আমরা সোশ্যাল ব্যালেন্সের পক্ষে।

আবুল বারাকাত আরও বলেন, বৈষম্য-অসমতা-দারিদ্র্য দূর করতে শুধু আসন্ন বাজেটে নয়, আগামী অন্তত ৫ বছর সমাজ থেকে আয়, সম্পদ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বৈষম্য ক্রমাগত হ্রাস করে এক সময় নির্মূল করার লক্ষ্যে যেতে হবে। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হতে হবে। বাজেটে অর্থায়নের উৎস নির্ধারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, বিত্তহীন, প্রান্তিক, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর কোনো ধরনের কর দাসত্ব আরোপ করা যাবে না।

চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার বা মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭.৫ শতাংশ। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয় ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

 

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতউন্নয়ন কর্মসূচিদরিদ্রনিম্নবিত্তবাজেট প্রস্তাববিদেশে অর্থপাচার