বিএনপি-জামায়াতের অস্তিত্ব দেশের শান্তির জন্য হুমকি: নানক

জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের অস্তিত্ব দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং শান্তির পথে হুমকি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছে: দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এ অপশক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সেমিনার কক্ষে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাৎ বার্ষিকী’র আলোচনা সভা এবং দোয়া মহফিলে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর।

৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নানক বলেন: একাত্তরে পরাজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তিরা জাতির পিতাকে মেনে নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের চক্রান্তে ঘটে বাঙ্গালি এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্মমতম হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার হয়েছে। এখন সময় এসেছে যারা পেছন থেকে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার নীল নকশা এঁকেছিলো, তাদের বিচারের আওতায় আনার।

তিনি আরও বলেন: একাত্তরের পরাজিত শক্তি রাজাকার, আলবদর, আল-শামস ও তাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম জামায়াতীরা বঙ্গবন্ধুকে মেনে নিতে পারেনি। এই বিষধর সাপ স্বাধীনতার পর থেকেই তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেছে। এবং তা বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করেছে৷

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মাঝে বিভেদ ৭১’র পরাজিত এ শক্তিকে ষড়যন্ত্র করা এবং তা সফলের সুযোগ করে দিয়েছিলো বলে দাবি করেন তিনি।

দেশ যখন জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আবারও এ শক্তি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন: সেদিন আমরা সতর্ক ছিলাম না বলেই ডালিম, শাহরিয়ার, নূর, খুনী মোশতাক ও জিয়াউর রহমানরা সফল হয়েছিলো। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করেছিলো। ২১ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া আন্তর্জাতিক শক্তিকে বাঙালিকে আবারও শোষণ এবং ইতিহাস বিকৃত করে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিলো।

সেই শক্তি বাংলাদেশের অগ্রগতিকে আবার অতীতের মতো এখন অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দাবি করে নানক বলেন: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন আবারও উন্নয়নের মহাসড়কে তখন স্বাধীনতা বিরোধী ওই শক্তি আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ৭৫ পর যেমন কোটালিপাড়া, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টা করেছে, এখনও করছে।

তিনি বলেন: তাদের এ ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি। ষড়যন্ত্র চলছে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আজ দেশের ১৬ কোটি বাঙালি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো জনগণ তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ সময়ে যখন শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে অবস্থান করেছে। আন্তর্জাতিক ফোরামে মর্যাদার আসনে আসীন হচ্ছেন। তার মাঝেও বোমা সন্ত্রাস করে, পেট্রোল বোমা দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে দেশকে অস্থির করতে চেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছে। তারা এখন নানা সময় গুজব ছড়িয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ অপশক্তি জামায়াত এখন বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আবারও সুযোগ খুঁজছে বলে দাবি করেন নানক।

তিনি সতর্ক করে বলেন: বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের রাজনীতিতে এক বিষধর সাপ। তারা আবারও সুযোগ খুঁজছে। এদের রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে একতাভূক্ত থাকতে হবে। সামান্য বিভেদের সুযোগে তারা আবারও অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন: এই বিষধর সাপকে বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নয়তো দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা আবারও হুমকির মুখে পড়বে। উন্নয়ন-অগ্রগতি ও শান্তির পথ রূদ্ধ হয়ে যাবে।

এসময় প্রকৌশলীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমতাসীনদের শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার এবং দল একসঙ্গে কাজ করছে। আর বিএনপি এ দুর্যোগে জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জরুরি অবস্থা জারি’র যে দাবি জানিয়েছেন তার জবাবে নানক বলেন: কী কারণে জরুরি অবস্থা জারি করতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ সচেতন, দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষেররা সামাজকি, সাংস্কৃতিক সংগঠন ডেঙ্গু নির্মূলে সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণের খবর রাখছেন। ডেঙ্গু প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তারপরও বিএনপি’র কেন এমন দাবি প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আইইবি সদর দফতর এবং ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ও মিলাদ মহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টআওয়ামী লীগজাহাঙ্গীর কবির নানকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান