বিএনপির এরা কি মানুষ, এদের কি মনুষ্যত্ববোধ আছে: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জেলহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের বীভৎস চেহারা আবার বেরিয়েছে। তারা পুলিশকে কিভাবে মারলো? এরা কি মানুষ? এদের কি মনুষ্যত্ববোধ আছে। তার (পুলিশ সদস্য) কী অপরাধ ছিল? ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালেও বিএনপি একই ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন আবার অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। আজকে বলব, সময় এসে গেছে, কারও জন্য অপেক্ষা না করে যেখানেই অগ্নিসন্ত্রাস সেখানেই সবাইকে প্রতিরোধ করতে হবে। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হতে হবে যেন অগ্নিসন্ত্রাস করে একটাও পার না পায়। আর যদি কোনোটা ধরা পড়ে হাতেনাতে যে আগুন দিচ্ছে ওইটাকে ধরে সঙ্গে সঙ্গে ওই আগুনেই ফেলতে হবে। তার হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। যে হাতে আগুন দেবে, ওই হাতই পোড়াতে হবে। তাহলেই তারা সোজা হবে, না হলে সোজা হবে না। যে যেমন, তেমন করতে হয়। ‘যেমন কুকুর, তেমন মুগুর’ দিতে হয়। তখন ওদের শিক্ষা হবে।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায় না। ওরা (বিএনপি) জানে, নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। মানুষ এখন তাদের প্রতি বিমুখ। তাই নির্বাচন বানচাল করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। বিএনপি কাকে নিয়ে নির্বাচন করবে? নির্বাচন করলে তাদের নেতা কে? কাকে প্রধানমন্ত্রী করবে? কাকে দিয়ে মন্ত্রিসভা করবে? বিএনপি চেয়ারপারসন, সে তো এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আর এখন তো অসুস্থ। বিএনপি জানে নির্বাচন করলে ওরা কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ২০১৮ নির্বাচনে তো মাত্র ২৯টা সিট পেয়েছিল। এখন তাদের অপকর্মের জন্য মানুষ আরও বিমুখ।

তিনি বলেন, দুষ্কৃতিকারী কয়েকজনের লাফালাফিতে নির্বাচন বানচাল হবে না। তাদের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। তারা নির্বাচনে আসবে কি না, জানি না। এলেও আসবে, ওই নমিনেশন বাণিজ্য করতে। মনোনয়ন নিয়ে বিভাজন না করার জন্য সতর্ক করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ কথা ভাবলে চলবে না, ওরা (বিএনপি) তো আসবে না। একটা সিট না পেলে কী হবে! এ চিন্তা যেন কারো মাথায় না থাকে। এই চিন্তাই কিন্তু সর্বনাশ ডেকে আনবে। কাজেই আমি যেই সিদ্ধান্ত দেব, সেই সিদ্ধান্ত মানতে হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আবারও ভোটের মাধ্যমে সরকারে আসতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকে নমিনেশন সেটাতো আমি দেব। কারণ আমি বসে থাকি না। প্রতি ছয় মাস পরপর আমার একটা হিসাব থাকে।

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন তো দুর্নীতির দায়ে জেলে। অসুস্থতা বিবেচনায় আমি তাকে বাসায় থাকতে দিলাম। একটা কুলাঙ্গার ছেলে তৈরি করে গেছেন জিয়াউর রহমান। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও মানিলন্ডারিং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ২১ আগস্ট গ্রেনেডে হামলায় জড়িত, তাতে তো সন্দেহ নাই।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের আমলে মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমান বিদেশ চলে যায়। এখন না কি ওখানে বসে জুয়া খেলে আর টাকা ইনকাম করে। আর ওখান থেকে জ্বালাও-পোড়াও করার নির্দেশ দেয়। বিএনপিতে আর কোনো নেতা নাই? ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনে কী হচ্ছে? হাসপাতালেও বোমা মারছে। নারী-শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না। মা ভেবেছিলেন, সন্তান নিয়ে হাসপাতালে নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু সেখানেও বোমা হামলা করছে ইসরায়েলিরা। আমরা খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছি। ঢুকতে দিচ্ছে না। পাশে মিশরে রেখেছি। আমাদের দেশে বিএনপিও হাসপাতালে হামলা করেছে। তারা ফিলিস্তিনের ইস্যুতে কোনো কথা বলে না। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার নিন্দা না জানানোয় বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষ কতটা দুর্দশার মধ্যে আছে। হামলায় কত মানুষ মারা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপি চুপ করে আছে। তাদের কোনো প্রতিবাদ দেখেছেন? তারা কাদের পদলেহন করে বাড়াবাড়ি করছে? তারা কাদের স্বার্থ দেখে, এটাই আমার প্রশ্ন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেন বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে আমাদের যে নেতাদের আমরা হারিয়েছি তাদের কাছে আমাদের এটাই ওয়াদা, যে আপনাদের জীবন নিয়ে গেছে সত্যি। কিন্তু যে বাংলাদেশ আজকে জাতির পিতা রেখে গেছেন, জাতীয় চারনেতা। আমরা এটুকু বলব, এই আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ওই সমস্ত দুষ্কৃতকারী কয়েকজনের লাফালাফিতে এ দেশে কখনো নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না, এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

কারা মজুত করে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে তাদের খুঁজে বের করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবজি আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। এটা বাজারে না এনে রেখে দেবে। দাম বাড়িয়ে দেবে। কারা মজুত করে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে খুঁজে বের করতে হবে।

১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড থেকেই হত্যা-ক্যু ষড়যন্ত্র শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধ্বংস শুরু। জিয়াউর রহমান মুখে বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধা হবেন, তাহলে তার আমলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ হয় কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় চার নেতা, যারা জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মিলে বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে শপথ নেয়। মন্ত্রিপরিষদ গঠন হয়। সেখানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এরপরই যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। যারা জাতির পিতার নেতৃত্বে এই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন বা মন্ত্রিসভায় ছিলেন, বেছে বেছে তাদের হত্যা করা হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল আমাদের জাতীয় চার নেতাকে। আজকে তার স্মরণ সভা। কারাগার সব থেকে নিরাপদ যায়গা, সেখানে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। এ হত্যার পেছনে চক্রান্তকারী খুনি মোশতাক। মোশতাকের মূল শক্তি ছিল জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত। মোশতাক-জিয়া চক্রান্ত করে যেমন জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছেন, তারা চার নেতাকেও হত্যা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডে মোশতাকের সব থেকে নির্ভরযোগ্য লোক ছিলেন জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেল গেটে যে কেউ ঢুকতে পারে না। রাষ্ট্রপতি যখন হুকুম দেন, তখন খোলে। তারা বলেছিলেন, আলোচনা করবে। আলোচনার কথা বলে জেলে ঢুকেছিল। পরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বিবরণ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগপ্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা