বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: নর্থ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে এফবিআই

নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পেছনে নর্থ কোরিয়াকে সন্দেহ করছে এফবিআই। সেই ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বিরাট চুরির পেছনে চীনের দালালদেরও হাত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নর্থ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনজীবীরা মামলা দাঁড় করাচ্ছেন – মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ডয়চে ভেলে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিজার্ভ চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানেন, এমন কর্মকর্তাদের সূত্র থেকে বলেছে, ফেডারেল আইনজীবীদের বিশ্বাস, চীনা দালালরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লুট করতে পিয়ংইয়াংকে সাহায্য করেছে। এই মামলাটি দায়ের হলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন নর্থ কোরীয় কর্মকর্তা নন, পুরো দেশটাই জড়িয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট চীনের মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও অভিযোগের আওতায় চলে আসবে।

এই মামলার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ পর্যায়ে দালালি ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ভাবছে মার্কিন কোষাগার।

গত মঙ্গলবার জনগণের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ’র উপ-পরিচালক রিচার্ড লেজেট জানান, ধারণা করা হচ্ছে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে নর্থ কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এরপরই এফবিআইয়ের মামলা করার পরিকল্পনাটি প্রকাশ পেল।

বেসরকারি কিছু অনুসন্ধানী সংস্থাও বহুদিন ধরে দেশটির জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ করে আসছে।

এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা তিনটি হ্যাকার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পান। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই সাইবার আক্রমণের তদন্তকারীরা জানান, এ তিনটি গ্রুপের মধ্যে একটি পাকিস্তানের এবং অন্যটি নর্থ কোরিয়ার।

বাংলাদেশ নিয়োজিত সিলিকন ভ্যালির সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই’র তদন্তে এই তথ্য মিলেছে বলে বিশ্বের বাণিজ্য সংবাদ বিষয়ক অন্যতম শীর্ষ সংস্থা ব্লুমবার্গ তখন জানায়। তবে অন্য হ্যাকার গ্রুপটি কারা এবং কোন দেশের, তা তখন নিশ্চিত হতে পারেননি ফায়ারআই’র তদন্তকারীরা।

ফায়ারআই’র দুজন কর্মকর্তা ওই সময় ব্লুমবার্গকে বলেন, পাকিস্তান এবং নর্থ কোরিয়ার দু’টি হ্যাকার গ্রুপ এই সাইবার চুরিতে জড়িত বলে ফরেনসিক পরীক্ষায় তারা তথ্য পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকরিজার্ভ চুরিহ্যাকিং