‘ফিরে চল মাটির টানে’র নির্বাচিত হলেন যে চার প্রতিযোগী

বিজ্ঞাপন

নির্বাচিত হলো ‘ফিরে চল মাটির টানে’র ৪ প্রতিযোগী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শবনম ফেরদৌসী ও অনিক আহমেদ, নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে মো. তাওহীদ হোসেন ও ফারজানা ইয়াসমিন মিলা যাচ্ছেন ‘ফিরে চল মাটির টানে’র এবারের আয়োজনে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ জানুয়ারি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশতাধিক শিক্ষার্থী আলাদাভাবে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ জন করে মোট ২০ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। এরপর ১৮ জানুয়ারি চ্যানেল আই কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় এই চারজনকে।

কৃষিখাত সম্পর্কে নগরের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ধারণা দিতে ২০১০ সাল থেকে চলছে ‘ফিরে চল মাটির টানে’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করা হয়।

শাইখ সিরাজ

উন্নয়ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘এদেশের অর্থনীতির প্রধানতম চালিকাশক্তি কৃষি হলেও কৃষি রয়ে গেছে নাগরিক চিন্তাভাবনার আড়ালে। কৃষকরা দেশের সব মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেয়ার জন্য যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করছেন শহরের নাগরিকরা অনুভব করতে পারে না। আর নতুন প্রজন্মের একটা বিশাল অংশ বেড়ে উঠছে শহরে কৃষি ও কৃষকের ন্যূনতম সংস্পর্শ ছাড়াই।’

বিজ্ঞাপন

“তারা কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়ার ভেতরের কষ্টগুলো অনুভব করতে পারে না।  এমনকি কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। এটি কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ব্যবধান। এই ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্যই আজকের নতুন প্রজন্ম, যারা আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, তাদের মাঝে কৃষি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়।”

শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

এ কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানিয়ে শাইখ সিরাজ বলেন, হয়তো এই ছেলে-মেয়েরা কেউ-ই ভবিষ্যতে কৃষি কাজ করবে না। কিন্তু তারা যদি তাদের জায়গা থেকে কৃষি ও কৃষকের পাশে থাকে; তাহলেই এই কার্যক্রম সফল হবে। হয়তো কেউ একটা অ্যাপ তৈরি করলো, কেউ নতুন কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আগ্রহী হলো, কেউ কৃষি বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন কোনো ধারণা গড়ে তুললো কিংবা একজন হয়তো কৃষকের জন্য পরম মমতা অনুভব করলো। কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে এই তরুণ প্রজন্মের আত্মিক সম্পর্ক থেকে দারুণ কিছু হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বাছাই পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার এ প্রয়াস প্রশংসাযোগ্য।’

নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করীম

নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করীম বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ‘ফিরে চল মাটির টানে’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য বড় একটি বিষয়। নিঃসন্দেহে এটি গর্ব করার মতো একটি কর্মসূচি।

নির্বাচিত এই চার শিক্ষার্থী জানান, তারা নির্বাচিত হওয়ায় ভীষণ আনন্দিত। একটা নতুন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য তারা উদগ্রীব।

জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই নির্বাচিত এই চার শিক্ষার্থী কৃষকদের সঙ্গে মাঠে নামবেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কৃষিফিরে চল মাটির টানেশাইখ সিরাজহৃদয়ে মাটি ও মানুষ