নিরাপদ সড়ক: কাদেরের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার জবাব দাবি হানিফের

নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে গত বছর আগস্টে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি কেন এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলো না, কড়া ভাষায় তার জবাব চেয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন: বিভিন্ন অজুহাতে সড়কের দায়িত্বে থাকা কর্মকতারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। আর এর দায় এখন আমাদের ওপর। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই কারও ব্যর্থতার দায় আমরা নিতে চাই না। কেন নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন হলো না তার জবাব দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁতীলীগের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন: আমরা চাই রাস্তা নিরাপদ হোক, নিরাপদ সড়ক চাই। আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছি, আমরা সকলেই নিরাপদ সড়ক চাই। এ সড়কে আমি, আমার ভাই, আমার পরিবার, সমাজের সকলেই যাতায়াত করি। সকলের স্বার্থে নিরাপদ সড়ক চাই।

সড়কের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: এই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন করা যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এর আগে ছাত্ররা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করেছিল; আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের সকল দাবি মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েকে সেই সকল দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নেবে তারা, যারা সড়কের দায়িত্বে আছেন।

প্রশ্ন রেখে ক্ষমতাসীন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন: সেই নির্দেশনাগুলো কেন বাস্তবায়ন হয়নি, আমরা সেটা জানতে চাই। মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায়ভার দেশবাসী নিতে পারে না। সড়কের দায়িত্বে যে কর্মকর্তারা আছেন তাদের আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যে আইন আছে সেটা ব্যবহার করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে আমরা কোন অজুহাত দেখতে চাই না।

যোগ করেন: আপনারা বিভিন্ন অজুহাতে ব্যর্থ হবেন আর সেই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের কাঁধে নিতে হবে এই দায়ভার আমরা নিতে চাই না। আমরা স্পষ্ট দাবি করছি বাংলাদেশের সকল সড়ক নিরাপদ হোক, আর সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একত্রিত হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

প্রায় আট বছর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যিনি বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত বছর ২৯ জুলাই বাস চাপায় নিহত হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে প্রথমে রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। যা পরে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১১ দিন স্থায়ী ওই আন্দোলন চলে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

ডাকসু নিয়ে আওয়ামী লীগে মতভেদ

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দলে বিভেদের সুরও কিছুটা স্পষ্ট হয় হানিফের বক্তব্যে। তিনি বলেন: ছাত্ররা আন্দোলন করল, ডাকসু নির্বাচন হলো। ফলাফলও আমরা দেখেছি। কেউ যদি সেখানে কিছু করতে যায় বলবে (নাম প্রকাশ না করে) ওর সাথে আমার সম্মতি আছে। আমাদের সবাই এমন হয়ে গেছি, কেউ কাজ করতে চায়না। কেউ কাজ করলে তার ফলটা কিভাবে ভোগ কিভাবে ভোগ করা যায় সবাই সেই চেষ্টায় আছেন।

বিএনপি ইস্যুতেও কথা বলেন হানিফ

বিএনপির রাজনীতি করার কোনো ইস্যু নেই মন্তব্য করে হানিফ বলেন: দলটি এখন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে। খালেদার চিকিৎসার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। চিকিৎসা নাটক করছে। তারা নিজেরা কিছু করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। দলটি অন্যের কাঁধে ভর করে রাজনীতি করছে। কেউ কিছু করলে সহমত প্রকাশ করে বিএনপি। এর আগে ছাত্রদের আন্দোলন, ডাকসু আন্দোলন সকল ক্ষেত্রে তারা আছে; বিএনপি নিজের কিছু করার ক্ষমতা নেই, অন্যের ওপর কাঁধে ভর দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করতে চায়।

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের ওপর ভর করলেই সরকারের পতনে রাস্তা নেমেছিল। বিএনপি নেতাদের বলি, লন্ডন থেকে বসে ইস্যু খুঁজে লাভ নেই।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন: বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে রিকশা চালায় দেখে ফখরুলের মায়া কান্না হয়। তারা মানবতার কথা বলে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ২৬ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ১০ হাজার মা-বোনকে নির্যাতন করেছে। তখন তাদের আবেগ ও মানবতা কোথায় ছিল।

ওবায়দুল কাদেরকাদেরনিরাপদ সড়কমাহবুবুল হক হানিফসড়ক