নরসিংদীতে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ২

সুমন রায়, নরসিংদী প্রতিনিধি: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আরুশ আলী ও জয়নাল। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০জন।

বিজ্ঞাপন

নিহত দুই জনই সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সাহেদের সমর্থক। প্রতিপক্ষ হামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কমপক্ষে ৩০/৩৫টি বসত ঘরে।

আজ দুপুরে জেলার রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাশঁগাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সাহেদ-এর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গেল ইউপি নির্বাচনে বাঁশগাড়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ পরাজিত হওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে দন্দ্ব চরমে উঠে। ইউপি নির্বাচনে জয় পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। সংঘর্ষে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থকদের তোপের মুখে এলাকা ছাড়া হয়ে যায় সাহেদ সমর্থকরা। এই নিয়ে সাহেদ সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। দীর্ঘ দিন গ্রাম ছাড়া থাকার পর গত মাসে সাহেদ সমর্থকরা গ্রামে ফেরার উদ্যোগ নেয়। এই খবরে সিরাজুল হক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা শক্তি সঞ্চয় করে শক্ত অবস্থান নেয়।

এ নিয়ে গত মসে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়, আহত হয় শতাধিক। পরে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন। প্রশাসনিক তৎপরতায় সংঘর্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কোন সমাধান হয়নি।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজ সোমবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। বেলা ১টার দিকে উভয় পক্ষ টেঁটা, বল্লম, দা, অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংষর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে।

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শফিউর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্ব বিস্তারের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে পুলিশ। এপযর্ন্ত দুই জন নিহত হয়েছে। বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গ্রামবাসীর সংঘর্ষনরসিংদী