ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ১ জুলাই। বাঙালির মুক্তচিন্তার বিকাশ, সমাজ পরিবর্তন ও সংগ্রামী চেতনার বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ঐতিহাসিক।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরের উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে শতবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

বাঙালি জাতিকে নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে ব্রিটিশ শাসকরা। তবে এর মাঝেও যারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তাদের হাত ধরেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠা পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল মূলত বঙ্গভঙ্গ রদের ফল। ১৯১৩ সালে গঠন করা নাথান কমিশনের ইতিবাচক ফলেই ১৯২১ সালের পয়লা জুলাই প্রতিষ্ঠা পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর থেকে এই ভূ-খণ্ডের সমাজ সংস্কৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।

ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আর স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানোর সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী তরুণরা। এছাড়া ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মূল ভূমিকা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

প্রতিষ্ঠার সময় ৩টি ছাত্র হল থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের হলের সংখ্যা ২০টির মতো। বেড়েছে বিভাগ এবং অনুষদের সংখ্যাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শতবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় আমরা বিশেষভাবে এই কর্মসূচিটি গ্রহণ করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানে এই কর্মসূচি করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ১৭ এর অধিক বিভিন্ন একাডেমিক ঘরানার গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন দিতে সক্ষম হয়েছি।

শতবর্ষের গৌরব ধারণ করে আরও বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার আশার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

উপাচার্যঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়