গ্রামীণ ক্রীড়ার সৌরভ ছড়িয়ে দেবে ‘কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশন’

খোলা মাঠ নেই। বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ শিশু-কিশোররা। বিনোদনের সঙ্গী ফেসবুক, ইউটিউব। যাতে ঘটছে না মানসিক বিকাশ। সময়টাতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাগুলোও। সেই বিলুপ্তপ্রায় ও বিপন্ন খেলাধুলাকে আবারও আলোতে আনতে রোববার আত্মপ্রকাশ ঘটল বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশনের। লক্ষ্য, দেশিয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে দেশব্যাপী নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে আনা।

৪ নভেম্বর, রাজধানীর অলিম্পিক ভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশন। চলতি বছরের ১০ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অ্যাসোসিয়েশনটিকে অধিভুক্ত করা হয় এবং ১ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।

রোববার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেন সংস্থাটির সভাপতি, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নূরুল হাসান ফরিদী, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, তারিকুজ্জামান নান্নু, আদিত্য শাহীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

শাইখ সিরাজ

নিজেদের শেকড় ভুলে গিয়ে নানা অবক্ষয় রোধে দেশজ খেলাধুলার পুনর্জাগরণের কোনো বিকল্প দেখছেন না শাইখ সিরাজ। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে খেলাধুলার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে তাগিদ তার, ‘যুবকরা এখন মাদকাসক্ত। কারণ তাদের তো কিছুই করার নেই। একটা মাঠ নেই, পড়ার জন্য লাইব্রেরি নেই। আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলে যাচ্ছি। আমরা যদি আমাদের এই জায়গাটাকে ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে হয়তো সমাজের এই অবক্ষয়গুলো রোধ করতে পারবো।’

একক ও দলগতভাবে মোট ১০টি খেলার উপর জোর দেবে কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশন। খেলাগুলো হচ্ছে- হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌ-চি, সাতচারা, নৌকাবাইচ, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, মোরগলড়াই, লাটিম খেলা, বস্তা দৌড়, ষোল গুটি, পাঁচ গুটি খেলা।

এসব খেলাসহ দেশিয় সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে জাগিয়ে তুলতে আহবান জানান শাইখ সিরাজ, ‘গণমাধ্যম প্রভাব ফেলে। কোনো না কোনো ভাবে। আমরা যদি খেলাটাকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে আমার বিশ্বাস এটা থেকে ভালো প্রত্যুত্তর পাওয়া সম্ভব। বর্তমান সরকার, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চাচ্ছেন গ্রামীণ খেলাগুলো ফিরুক।’

অনুষ্ঠানে মো. কামরুজ্জামানকে সম্মাননা জানানো হয়। গর্বিত পেশায় ৫২ বছর পার করলেন এই প্রবীণ ও কৃতি সাংবাদিক। সম্মাননা পেয়ে বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানান কামরুজ্জামান। প্রতি বছর একজন করে কৃতি সাংবাদিককে সম্মাননা জানাবে কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশনলিড স্পোর্টস