খালেদা জিয়া রাজনীতিতে ফিরে আসুক বিএনপির কিছু নেতা তা চায় না: হানিফ

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা গ্রহণের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন: বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ’তে চিকিৎসা নিয়ে ভালো আছেন। ডাক্তারদের কাছে তিনি সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা তাতে সন্তুষ্ট নয়। আসলে তারা চায় না খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসুক।

মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর টাউন হল শহীদ পার্ক মাঠে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি।

এসময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন: আজকে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি মর্যাদাশালী দেশ। গত দশ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে বিশ্ববাসী বারবার অবাক করছে। বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থেকেও দেশকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছে। তারা ভোটের রাজনীতি ধ্বংস করার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করেছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন: জনস্বার্থে বিএনপি-জামায়াতের আজকে কোনো রাজনীতি নেই।বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে তাদের আরো কিছু দোসর যুক্ত হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।

বিএনপির আজকের আন্দোলনের মূল ইস্যু কী, এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এ নেতা বলেন: তাদের আন্দোলন তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

হানিফ বলেন: বিএনপির অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ অনেক পিছিয়ে ছিল। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি প্রত্যাশা করবো বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তাদের দলের ভুল রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচে না পড়ে তাদের এলাকার মানুষের কথা বলার জন্য হলেও শপথ নিবেন। জনগণের কথা ভেবে তাদের সংসদে আসা উচিত।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল দাবি করে হানিফ বলেন: ৭০ এর নির্বাচনের আগে জাতির পিতার মাধ্যমে এদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের। তারপর জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে সে স্বপ্নকে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশের মানুষ ২০০৮ সালে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন। আজকে পদ্মা সেতু করার সময় বিশ্বব্যাংক যখন গড়িমসি করেছেন। আজকে তারাই বলছেন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রোল মডেল।

গত দু’মেয়াদ আওয়ামী লীগের শাসনকালে দেশের অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নয়ন তুলে ধরে সভার প্রধান বক্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন: আমাদের জিডিপি এখন ৮.১৩ যেটা এক সময় ভাবা যেত না। কিন্তু শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বে সেটা করে দেখিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে যদি সত্যিই এগিয়ে নিতে হয় তাহলে শেখ হাসিনার হাতকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। হাত শক্তিশালী হলেই বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।

এছাড়া সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। সেই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগখালেদা জিয়াবিএনপিমাহবুব-উল আলম হানিফ