ক্ষমা চাইলেন বোল্ট

কেমন হতো ম্যাচের ফল, যদি লর্ডসের ফাইনালে বেন স্টোকসকে আউট করতে পারতেন ট্রেন্ট বোল্ট? মিডউইকেটে স্টোকসের ক্যাচ নেয়ার পর যদি বাউন্ডারিতে স্পর্শ না করতো বোল্টের পা, তাহলে ম্যাচটা জিততো নিউজিল্যান্ড?

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসের ফাইনাল নিউজিল্যান্ডের কাছে এমন একেকটি প্রশ্ন আর আক্ষেপের গল্প। দলটিকে ঘিরে আছে কতশত প্রশ্ন আর হতাশা। যার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ট্রেন্ট বোল্ট! কিউই পেসার নিজেও জানেন, তার একটি ছোট ভুলে শিরোপা বিসর্জন দিতে হয়েছে দলকে! যে স্মৃতি থেকে নিস্তার মিলবে না কখনও। দেশে ফিরে তাই হয়ত পুরো দায়টা নিজের ঘাড়েই তুলে নিলেন বোল্ট। ওই ভুলের কারণে ক্ষমা চাইলেন দেশবাসীর কাছে।

লর্ডসের ফাইনালে জিততে ইংল্যান্ডের তখন ৯ বলে দরকার ২২ রান। সেসময় মিডউইকেটে ক্যাচ দেন ইংলিশদের শেষ ভরসা হয়ে জ্বলতে থাকা স্টোকস। ক্যাচটা বোল্ট নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে। হাতে বল নিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন বাউন্ডারি লাইন। উইকেট হারানোর বদলে উল্টো ছয় রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। যেখানে ক্যাচ আউট হওয়ার কথা, সেখানে উল্টো স্টোকস জীবন পেয়ে শেষপর্যন্ত দলকে টেনে নেন সুপার ওভার পর্যন্ত। কিউইদের প্রথম শিরোপার স্বপ্ন অনেকটা ফিকে হয়ে যায় ওই ঘটনার সময়ই!

শিরোপা হারিয়ে ভগ্ন হৃদয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড দল। ফিরেই দেশবাসীর কাছে স্টোকসের ক্যাচ নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন বোল্ট, ‘আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি। আপনাদের হৃদয় ভাঙার জন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমি এখন শুধু ঘরে ফিরতে চাই, পোষা কুকুরটাকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে হেঁটে যা হয়েছে ভুলে যেতে চাই। তবে সবচেয়ে বড় সত্যিটা হচ্ছে, আগামী কয়েকবছর আমাকে এই স্মৃতিটা তাড়া করে ফিরবে।’

‘দেশের পথে ফ্লাইটটা ছিল আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন ফ্লাইট। পরাজয়ের স্মৃতি তখনও হৃদয় থেকে মুছে যায়নি। আমি চেয়েছি তা যেন মুছে যায়। কিন্তু সেটা হয়নি। প্লেনে আমরা ১৫ ঘণ্টা ছিলাম। সেখানে দেশের অনেকেই ছিলেন। তাদের অনেকেই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দেশের হারের জন্য তুমিই দায়ী! তখন আমি কী বলবো সেটা বুঝে উঠতে পারিনি।’

ট্রেন্ট বোল্টবিশ্বকাপ-২০১৯লিড স্পোর্টস