কাদেরের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব কার হাতে?

জীবন সঙ্কটে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বলছে, সুস্থ হয়ে ফিরলেও সহসাই তাকে সাংগঠনের কাজে দেখা যাবে না। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এ দায়িত্ব কে সামলাবেন? কাকে দেওয়া হবে সেই ভার?

বিজ্ঞাপন

এমন নানা প্রশ্ন গত দুইদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি গণমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি গণতন্ত্রের চর্চা করে। সেটা হোক রাজপথ, সরকার কিংবা দলের ভেতরে। আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ চর্চা এসব ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। আমাদের সব কিছু নিয়মের মধ্যেই আছে।’

‘‘তাছাড়া বিষয়টি এখন পদ কিংবা দায়িত্বের নয়। দীর্ঘ সময় যদি আমরা আমাদের সাধারণ সম্পাদককে না পাই; তাহলে একজন তার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পাবেন। তার এমন হঠাৎ অনুপস্থিতি আমাদের আবেগতাড়িত করেছে, স্তম্ভিত করেছে।’’

ওই নেতা আরো বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন। তিনি যেদিন হাসপাতালের ভর্তি হলেন, আমাদের নেত্রী ঢাকার বাইরে ছিলেন। সেখান থেকে ঢাকা পৌঁছে কোনো সিডিউল ছাড়াই সরাসরি হাসপাতালে চলে আসেন। আমরা সকলেই তার সুস্থতা কামনা করছি। এমন সময়ে তার বিকল্প খোঁজ করার চিন্তা আমাদের কারও মাথায়ই আসেনি।’

‘‘তবে তিনি যেহেতু দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন আর সামনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে, তাই দলের সামগ্রিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে হয়তো আমাদের নেত্রী সাময়িকভাবে কাউকে দায়িত্ব দেবেন।’’

আরেকজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করে, অন্য যে কোন দলে হলে এতক্ষণে সাধারণ সম্পাদক পদটির জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এ দলটি আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর হয়তো আমাদের নেত্রী একটি সিদ্ধান্ত নেবেন।’

‘‘যদি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘ সময়ের জন্য সাংগঠনিক কাজে অংশ নিতে অপারগ থাকেন, সে ক্ষেত্রে একজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিবেন।’’

আওয়ামী লীগের এই নেতা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি দল নয়, একটি আবেগের নাম। ওবায়দুল কাদের এখন দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর আবেগে পরিণত হয়েছেন। আমরা সকলে তার সুস্থতা কামনা করছি।’

গঠনতন্ত্র উল্লেখ করে দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫.(১)-এর (গ) ধারায় বলা হয়েছে: ‘সাধারণ সম্পাদক কার্য উপলক্ষে অনুপস্থিত থাকিলে অনুপস্থিতকালের জন্য তার সমস্ত কার্য ও দায়িত্ব পালনের ভার নামের ক্রমানুসারে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ওপর এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকগণ অনুপস্থিত থাকলে তাহাদের দায়িত্ব ক্রমানুসারে বিভাগীয় সম্পাদকদের ওপর ন্যস্ত থাকিবে।’

কে পেতে পারেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব?
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা চারজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হবে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে।

এক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা যেতে পারে মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের মধ্যে যে কোনো একজনকে।

নামের ক্রমানুসারে এক, দুই, তিন নম্বর অবস্থানে থাকা নেতারা প্রাধান্য পেতে বলে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবেন মাহবুবুল আলম হানিফ।

এর আগে দলটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিনের জন্য অনুপস্থিত থেকেছেন তখন বিকল্প হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কারান্তরীণ ছিলেন, তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত নেতা জিল্লুর রহমান।

সম্প্রতি দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় সফরে দেশের বাইরে গেলে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ ওই সময় বাকি চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের কেউই দেশে ছিলেন না।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম সাধারণ কাউন্সিলে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

গত রোববার ভোরে হৃদরোগ আক্রান্ত হন ওবায়দুল কাদের। ওই দিনই রাজধানীর বিএসএমএমইউতে তাৎক্ষণিক তার হৃদযন্ত্রে একটি রিং পরানো হয়।

পরেরদিন সোমবার রাতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়। তার আগে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসেন ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি।

আওয়ামী লীগওবায়দুল কাদের