এক শিক্ষার্থীর ভুলেই চলে আসে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মেধাক্রম: তদন্ত কমিটি

ফরহাদুর রহমান:  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) স্নাতক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর ১২তম হওয়ার ঘটনাটি অন্য এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর ভুল করায় ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

এদিকে এ ঘটনায় স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বুধবার থেকে পুনরায় চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব এমদাদুল হক বলেন, ‘বি’ ইউনিটের প্রকাশিত ফলাফলে ১২তম হওয়া সাজ্জাতুল ইসলামের রোল ছিল ২০৬০৫০। যার ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কোটবাড়ির টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। ভুলক্রমে ওএমআর শীটে তার এই রোল একই কেন্দ্রের ২০৬১৫০ রোলধারী মোঃ আলী মোস্তাকিন পূরণ করেন। মোঃ আলী মোস্তাকিন উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লেখলেও বৃত্ত ভরাটের ‘১’ এর স্থলে ‘০’ ভরাট করেন। ঐ কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের অসর্তকতায় বিষয়টি ধরা না পড়ায় উত্তরপত্রটি ভুলভাবেই মূল্যায়িত হয়।

যার ফলে ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মোঃ আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি রোল নম্বর ভুল লেখায় মেধাতালিকায় স্থান পাননি। যার ফলে ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও মেধা তালিকায় স্থান পায়। উপস্থিতি যাচাই না করে কেন ফলাফল প্রকাশ করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক সৈয়দুর রহমান বলেন, দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার জন্য আমাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিতি যাচাই না করেই আমরা ফলাফল প্রকাশ করি। তবে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার সময় আমরা এ বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করি। ভবিষ্যতে ফলাফল প্রকাশের আগে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যাচাই করার জন্য তদন্ত কমিটি সুপারিশ জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.আবু তাহের বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হলো যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোন জালিয়াতি নেই। উপস্থিত এক শিক্ষার্থীর ভুলেই এমনটা ঘটেছে।

এর আগে গত ৮ ও ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে ভর্তি পরীক্ষার উপস্থিতির তালিকায় নাম না থাকলেও ফলাফলে সাজ্জাতুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীর ১২তম স্থান অধিকার করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় ১২তম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীভর্তি পরীক্ষা