আর কোনদিন সুপার ওভারে খেলতে চান না স্টোকস

রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে বাউন্ডারির হিসেবে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। লড়াকু এক ইনিংসে ইংলিশদের ফাইনালের নায়ক বেন স্টোকস। নির্ধারিত ওভার থেকে শুরু করে সুপার ওভার- স্টোকসই জ্বালিয়ে রেখেছিলেন স্বাগতিকদের জয়ের আশা। বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডারের সেই ফাইনাল নিয়ে বক্তব্য কী? জবাবে বলেছেন, আর কোনদিন সুপার ওভার খেলতে চান না!

বিজ্ঞাপন

লর্ডসের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই রান তাড়া করতে গিয়ে একদম শেষ বলে অলআউট হয়ে ইংল্যান্ডও রান তোলে ২৪১। এরপর ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও দুই দলের রান সমান ১৫ হওয়ায় বাউন্ডারি বেশি থাকায় ইংল্যান্ডের হাতে প্রথমবারের মতো তুলে দেয়া হয় বিশ্বকাপের ট্রফি।

ফাইনালের মতো ম্যাচে সুপার ওভার, সেটাও আবার টাই! এমন স্নায়ুক্ষয়ী অবস্থার পর কী ছিল স্টোকসের অবস্থা? আইটিভির ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটারের উত্তর, ‘আমি গোসলখানায় গিয়ে পাঁচ মিনিট নিজেকে সময় দিয়েছি। আমি আর কোনদিনই সুপার ওভারে খেলতে চাই না।’

সুপার ওভারের শেষ বলে মার্টিন গাপটিলকে রান আউট করেন ইংলিশ উইকেটরক্ষক জস বাটলার। সেই আউট দেখে খুশিতে লাফিয়ে পড়েছিলেন স্টোকস, ‘আমি পিছলে গিয়েছিলাম, পরে পড়ে গেলাম।’

‘আমার কাছে মার্ক উডের সানগ্লাস ছিল। মাটিতে পড়ে গিয়ে সেটা ভেঙে যায়। আসলে তখন খুবই হই-হুল্লোড় অবস্থা।’

ফাইনালে ৮৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেছিলেন বাঁহাতি স্টোকস। পরে সুপার ওভারেও ব্যাটিং করেছেন। খেলা যখন সুপার ওভারে গড়ায় তখন নাকি ব্যাটিংয়ে নামার কোনো ইচ্ছাই ছিল না তার, ‘আমি বলেছিলাম জস বাটলার আর জেসন রয়কে যেন পাঠানো হয়। কিন্তু ইয়ন মরগান(অধিনায়ক) বলল, আমাদের ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নামানো দরকার।’

বিশ্বকাপ জিতিয়ে ইংলিশদের চোখের মণিতে পরিণত হয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেয়া স্টোকস। অথচ ২ বছর আগে উচ্ছৃঙ্খল এক কাণ্ডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে বসেছিল তার। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টলে এক নাইটক্লাবে মারামারির কাণ্ডে অ্যাশেজ দল থেকে বাদ পড়েন, ফৌজদারি মামলায় যেতে হয়েছে আদালত পর্যন্ত।

সেই মামলায় খালাস পেয়ে ক্রিকেটে ফেরায় নিজের পরিবার ও ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। মামলা পরবর্তী জীবনকে অবহিত করেছেন দ্বিতীয় জীবন হিসেবে।

বিশ্বকাপ-২০১৯বেন স্টোকসলিড স্পোর্টস