আবৃত্তি ও দেশের গানে শহীদদের স্মরণ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শিল্পকলা একাডেমির দিনব্যাপী আয়োজন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও দেশের গানের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির নন্দন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটারের পোস্টার প্রদর্শনী।

একাডেমির শিল্পী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শহীদদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও সকাল ১০টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পূস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৯টা থেকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও দেশের গানের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

আলোচনা পর্বে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব সালাউদ্দিন আহম্মদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর এবং প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন।

আলোচনা পর্বের পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, একক সংগীত ও সমবেত সংগীতের মাধ্যমে এ শহীদদের স্মরণ করা হয়। কবিতা পাঠ করেন কবি নুরুল হুদা, রুবি রহমান, ড. মুহাম্মদ সামাদ, মিনার মনসুর এবং ড. লায়লা আফরোজ। ‘সুন্দর সুবর্ণ ’,‘মাগো ধন্য হলো’, ‘বঙ্গবন্দুর লাগিয়া’, ‘যে দেশেতে শহীদ মিনার’,‘ও আমার জন্মভুমি’,‘আমি তোমার জন্য’ শিরোনামে একক সংগীত পরিবেশন করেন যথাক্রমে সূচিত্রা রাণী সুত্রধর, হিমাদ্রী রায়, রোকসানা আক্তার রুপসা, মেহেক, হিরক সরদার এবং ইয়াসমিন আলী।

‘ও আলোর পথযাত্রী’ শিরোনামে ইয়াসমিন আলীর পরিচালনায় সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। মুক্তিরও মন্দিরও সোপান তলে, নয়ন ছেড়ে গেলে চলে, ভেবোনা গো মা তোমার, কাদোঁ বাঙালি কাদোঁ এবং মরণ সাগর পাড়ে শিরোনামে সমবেত সংগীত (কোলাজ) পরিবেশন করেন ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় করেন ডালিয়া আহম্মেদ।

সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি নূরুল হুদা, কবি শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, কবি আসলাম সানি, ফারুক মাহমুদ এবং কবি শাকিরা পারভীন। আবৃত্তিতে ছিলেন গোলাম সারোয়ার, মিজানুর রহমান সজল, ফয়জুল্লাহ সাঈদ, কাজী বুশরা আহমেদ তিথি এবং মাহমুদা আক্তার।

সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন শিবু রায়, ছন্দা চক্রবর্তী , মিমি আলাউদ্দিন এবং আজগর আলী এছাড়াও ছিল আহসান উল্লাহর পরিবেশনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আসলাম শিহির।

একই সময়ে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে সকাল ৯টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি শিহাব সরকার, কবি টোকন ঠাকুর, কবি ঝর্ণা রহমান, কবি শিহাব শাহরিয়ার এবং কবি ওবায়েদ আকাশ।

আবৃত্তিতে ছিলেন লায়লা তারান্নুম, মীর বরকত, রেজিনা ওয়ালী লিনা, ইকবাল খোরশেদ, শামীমা চৌধুরী এলিস এবং মাসুদ মান্নান। সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, নুরজাহান আলীম , রাজিয়া সুলতানা মুন্নি এবং নবীন কিশোর গৌতম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন তামান্না তিথি।

আলোচনাগণহত্যাথিয়েটারলিয়াকত আলী লাকীশিল্পকলাশিল্পকলা একাডেমিসভাপতিসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান