আগুন লাগলে সেলফি না তুলে এক বালতি পানি আনুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: আগুন লাগলেই দেখি অনেকে সেলফি তোলে, দেখতে যায়। সেলফি তোলার কী আনন্দ বুঝি না। তা না করে সবাই এক বালতি করে পানি আনুক, আগুন নেভানোর চেষ্টা করুক। এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন: চৈত্র বৈশাখে আগুনের প্রবণতা থাকে। ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টা ছিলো। ফায়ার সার্ভিসের ওপর কিছু মানুষ চড়াও হয়। তাদের গাড়ি পর্যন্ত ভেঙ্গে দিয়েছে। এক একটা গাড়ির দাম অনেক। যারা উদ্ধার করতে যায় তাদের বাধা দেওয়া ও মারা এটা কেমন কথা? যারা এ ধরনের কাজ করেন তারা যদি আগুন নেভানোর কাজ করতেন, তাহলেই ভালো হতো।

প্রধানমন্ত্রী জানান: ফায়ার সার্ভিসের একজন আহত হয়েছে। তারপরও আগুন লাগলে তারা কাজ করে যাচ্ছে। একটা কম বয়সী মানুষ উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ সঙ্কটে ভুগছে।

তিনি বলেন: ইউনিভার্সিটির ছেলেরা এসেছিলো, পরে তাদের বললাম ভলান্টিয়ার হয়ে কাজ করতে। সাধারণ কিছু মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ আছে। তাদের মতো সবাইকে হতে হবে। মিডিয়া দেখলেই মানুষ ভিড় করে। সেটাও বুঝতে হবে। আগে ঢাকায় খাল-বিল ছিলো, এখন সব ভরা হয়েছে, ফলে পানির অভাব। দালান করার আগে জলাধার থাকার বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে।

আগে বনানীতে অনেক খাল, পুকুর ছিলো। বনানী এখন বিএনপি পল্লী হয়েছে।তারা ক্ষমতায় আসার পর ভরাট করে প্লট বানিয়েছে। জিয়া এবং এরশাদের আমলে গুলশান লেক ভরাট করে অর্ধেক বানিয়ে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। যারাই ভবন নির্মাণ করবেন তারা আগুনের বিষয়, জরুরি এক্সিট গেট রাখার বিষয়গুলো মাথায় রেখে নির্মাণ করবেন। আগুনে যারা স্বজন হারিয়েছেন সেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সতর্ক বার্তা জানিয়েছে, কিন্তু কেন তারা এই ধরণের সতর্ক বার্তা দিলো তা বুঝতে পারলাম না। এই ধরণের কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি যদি থেকে থাকে তাহলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

দেশ উন্নত হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন: প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীর্ষ ৫ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ স্বাধীনতার অর্ধশত বার্ষিকীতে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।

আমরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো, ২০৭১ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকীতে যারা থাকবে তারা উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ পাবে। এজন্য ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছে আমরা।

নির্বাচনে বিএনপির ওপর জনগণ আস্থা রাখেনি। বিএনপির নামে কোন মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে তারা নমিনেশন বাণিজ্য করেছে, জনগণ তাদের ওপর আস্থা রাখেনি; তাই তাদের এ ভরাডুবি হয়েছে।

জেল থেকে খালেদা জিয়া একজনকে নির্বাচনে নমিনেশন দিলেও লন্ডনে থেকে আরেকজনকে নির্বাচন করতে বলা হয়, ফলে নির্বাচনে বিএনপির এই ভরাডুবি হয়েছে।

আওয়ামী লীগআগুনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসেলফি