‘অবহেলিত নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চাই’

দ্বীপজেলা ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখতে সেখানকার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চান লালমোহন উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি কামরুন নাহার সুমি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য হতে পারলে নারী শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে কাজ করব। পাশাপাশি ভোলা জেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সবার উন্নয়নে কাজ করব।

সম্প্রতি চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুন নাহার বলেন: আমার নির্বাচনী এলাকায় নারীর সংখ্যা বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও বেশি। এই বিশাল নারী গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এবং নারীর ক্ষমতায়নে ও নারী কর্মসংস্থানে কাজ করতে চাই। ইতোমধ্যে আমি এলাকার প্রত্যন্ত বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়েছি, যেখানে আমি নারীদের সমস্যার কথা শুনেছি, তাদের নানাভাবে সহায়তা করেছি।

তিনি বলেন: শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের এলাকার নারীরা অনেক পেছানো ছিল বর্তমানে অনেকটা এগিয়েছে, তবে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে যদি আমি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাই তবে অবহেলিত নারী শিশুরা শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।

‘ইতোমধ্যে গ্রাম ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের স্কুলমুখী করা হয়েছে, আমি চাই ভবিষ্যতে নারী শিক্ষার হার বাড়াতে এবং শিশুদের জন্য বেশ কিছু স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে। শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এলাকায় নিয়মিত কাজ করছি, এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুদের নানাভাবে সহায়তা করছি।’

তিনি বলেন: ইতোমধ্যে এলাকায় আমরা মাদকের গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রতিটি স্কুলে মাদক বিরোধী সেমিনার করেছি। ভোলার অন্যতম সামাজিক সমস্যা বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের সঙ্গে আমরা মাঠে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

‘আমাদের জেলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ আছে, এছাড়াও কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি ও কুটির শিল্পেও সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। এলাকার উন্নয়নে এ সমস্ত শিল্প নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার ভবিষতে খুলে দিবে। তাই সার্বিকভাবে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই।’

নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কামরুন নাহার বলেন: ‘আমি পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির আদর্শে বেড়ে উঠেছি। এ কারণে বিএনপি-জামায়াত জোটের অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা।

রাজনীতিতে কলেজ জীবন থেকে সক্রিয়, কলেজে ছাত্রলীগের মহিলা সম্পাদিকা ছিলাম। বিগত দিনে রাজপথের সকল আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। এবারের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতারের নেতৃত্বে সাংগঠনিকভাবে সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি।’

তিনি বলেন: আমি এলাকার মানুষের জন্য কতোটুকু কাজ করেছি তা সেখানকার মানুষ জানেন। আমি এলাকার উন্নয়নে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে চাই। এজন্য সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চাইব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তৃণমূল থেকে উঠে আসা আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে আমাকে মনোনয়ন দিবেন, আমি এটা প্রত্যাশা করি।

কামরুন নাহার সুমিতজুমদ্দিনভোলা-৩যুব মহিলা লীগলালমোহনলালমোহন-তজুমদ্দিনসংরক্ষিত নারী আসন