আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ হকির আকাশে নতুন তারকা। সদ্যগত যুব হকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও হ্যাটট্রিকম্যান। গোলমেশিন, পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট বা ঝাঁকড়া চুলে হকির ‘হামজা’, এসব নাম পেয়ে গেছেন অল্পদিনেই। প্রথমবার অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বআসরে যেয়ে লিখেছেন ইতিহাস। বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৫ হ্যাটট্রিকে করেছেন আসর সর্বোচ্চ ১৮ গোল। দল গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেও আমিরুল জিতেছেন সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার। ওমানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের দিনে ৫ গোল করেছিলেন। সাউথ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দুটি হ্যাটট্রিক তুলেছেন।
আসর শুরুর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে শুরু করেছিলেন যাত্রা। শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে শেষ করেন আমিরুল। বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে আসরে যাত্রা শেষ করে। ২৪ দলের মধ্যে স্থান নির্ধারণীতে বাংলাদেশ হয়েছে ১৭তম। সবমিলে প্রথমবার যুব বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি আমিরুলের যাত্রা দারুণ হয়েছে। ভারতে হওয়া টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সাফল্য, বাংলাদেশের সাফল্য-ব্যর্থতা, বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেসবের গল্প চ্যানেল আই অনলাইনকে শুনিয়েছেন আমিরুল।
আপনার পড়াশোনা কোন পর্যায়ে আছে, পরিবারে কে কে আছেন, তাদের থেকে কেমন সমর্থন পান?
আমিরুল: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমরা দুই ভাই, এক বোন। বাসা থেকে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই সমর্থন পাই। প্রথমে তেমন সমর্থন পাইনি, কারণ তারা হকি খেলা এত বুঝতো না। প্রথমদিকে হয়তোবা এত সমর্থন পাইনি। এরপর বিকেএসপিতে ভর্তি হই, আস্তে আস্তে তারা খেলাটা বুঝতে থাকে এবং আমাকে সমর্থন দিতে থাকে।
হকি খেলতে কে আপনাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন? দেশে যখন ক্রিকেট-ফুটবলে জোয়ার, সেখানে হকিকে কেন বেছে নেয়া?
আমিরুল: হকি খেলার হাতেখড়ি আমার আঙ্কেল নুরুল ইসলাম নুরুর মাধ্যমে। তিনি আমার আঙ্কেল হন, আগেকার সিনিয়র হকি খেলোয়াড় ছিলেন। ফরিদপুর স্টেডিয়ামে উনি ছেলেদের হকি অনুশীলন করাতেন। আমি দেখতাম হকি খেলে, তারপর আস্তে আস্তে চেষ্টা করি শেখার জন্য। পরে উনি আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য বলেন। তারপর ২০১৬ সাল থেকে হকির এপর্যন্ত আমার যাত্রা।

হকি একসময় প্যাশনের সাথে জীবন ধারণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে, হকি ও জীবনের সামঞ্জস্য করতে হকিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন কিনা?
আমিরুল: অবশ্যই, চেষ্টা করব পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার। যেহেতু বর্তমানে হকির জাতীয় দলে আছি, জুনিয়র দলেও আছি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। যদি ভবিষ্যতে সুযোগ হয়, তাহলে হকিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেব।
ভারত-পাকিস্তানে হকির প্রো লিগ হয়। বাংলাদেশে হকির তেমন কোন খেলা হয় না। ঘরোয়া লিগও দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে নিজেকে এগিয়ে নিতে আপনার চাওয়া কেমন?
আমিরুল: প্রথমত, আমাদের লিগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আছে। এগুলো যেন আমাদের ক্যালেন্ডারে বাধ্যতামূলক থাকে। প্রতিবছর লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগ থাকবে, ন্যাশনাল লিগ থাকবে, আমন্ত্রণমূলক আসর থাকবে, সাথে বাইরের দেশের সাথে বা বড় বড় দেশের সাথে সিরিজ থাকবে। যখন এই ক্যালেন্ডারটা হকি ফেডারেশন আয়োজন করতে পারবে, তখন অন্যান্য খেলার মতো হকিও জনপ্রিয় খেলা হবে।
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ, আপনি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কেমন লাগছে?
আমিরুল: অনুভূতি, আলহামদুলিল্লাহ দলের জন্য এতগুলো গোল করতে পেরেছি। প্রথমেই বলব সুযোগ পাওয়ার কথা। বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটা আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া বড় ব্যাপার। এজন্য আমাদের কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার সতীর্থদেরকে, যারা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিল আমি গোল করতে পারব। চেষ্টা করেছি গোল করার জন্য, কোচ আমাকে যেভাবে বলেছে শতভাগ সেভাবে করার জন্য চেষ্টা করেছি।

বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে পাঁচ হ্যাটট্রিক, এমন সাফল্যের প্রত্যাশা ছিল?
আমিরুল: আমার প্রথম চিন্তা ছিল দলের জন্য খেলব, দলের জয় যেন নিশ্চিত করতে পারি, সেইটা। হ্যাটট্রিকের কথা বলতে গেলে বলব, ব্যক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছি শতভাগ পারফরম্যান্স করার। আমার উপর যে বিশ্বাস সবাই রেখেছে, সেটা যেন শতভাগ দিতে পারি।
আপনার করা ১৮ গোলের ১৫টি এসেছে পেনাল্টি কর্নার থেকে। আপনাকে পেনাল্টি স্পেশালিস্ট বলা যায় কিনা?
আমিরুল: এখনই সেটা বলতে চাই না। আমার থেকে আরও সিনিয়র খেলোয়াড় যেমন আশরাফুল ভাই আছেন, সবুজ ভাই আছেন। তারা আমার থেকে অবশ্যই ভালো। আমার চেষ্টা থাকবে খুব দ্রুতই তাদের ছাড়িয়ে যাওয়া এবং আমার চেষ্টা থাকে সবসময় নতুন কিছু শেখার। আমার সিনিয়র যারা আছেন, সবসময় চেষ্টা করি নতুন কিছু শেখার জন্য। বিশ্বকাপ বা বড় বড় দলে যারা খেলছেন, তাদের থেকে কীভাবে শিখতে পারি সেই চেষ্টা থাকে।
আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে সতীর্থদের সহযোগিতা কেমন ছিল?
আমিরুল: আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব আমার সতীর্থদের। কারণ তারা পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিতে পারায় আমি পেনাল্টিগুলো নিতে পেরেছি। মনে করি ওরা যদি পেনাল্টি কর্নার না নিতো, আমি ডিফেন্ডার হিসেবে পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পারব না। কোচের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে সরাসরি শট নেয়া, সেই সুযোগ না থাকলে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয়া। সেজন্যই ওরা পেনাল্টি কর্নারের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।

এই সাফল্যকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? সেজন্য কী পদক্ষেপ, কীভাবে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন?
আমিরুল: এখন বড় দায়িত্ব চলে আসছে, যেহেতু জুনিয়র দলে ভালো খেলেছি, সিনিয়র দলেও ভালো খেলতে হবে। এখন আমার লক্ষ্য যেহেতু জুনিয়র বিশ্বকাপ খেলেছি, সিনিয়র দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেই আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।
এবারের বিশ্বকাপে আপনাদের খেলা সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ কোনটি ছিল?
আমিরুল: কঠিন বলতে কোরিয়ার বিপক্ষে আমাদের ম্যাচটি কঠিন ছিল। আমরা প্রথমে ৩ গোল হজম করে ফেলেছিলাম। কোরিয়া আমাদের মতোই সমকক্ষ দল, প্রথম কোয়ার্টারে আমরা তিন গোল হজম করে ফেলি। ওই ম্যাচে আমাদের ফিরে আসা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা মানসিকভাবে শক্ত ছিলাম যে, ফিরে আসতে পারব। আমাদের সবাই ম্যাচে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং অবশেষে আমরা ম্যাচে ফিরতে পেরেছিলাম। ৩-০তে পিছিয়ে থাকার পর ৩-৩ গোলে সমতায় আসা, মোটেও সহজ ছিল না। সেজন্য আমরা বলতে পারি ওটাই আমাদের সেরা ম্যাচ ছিল।
প্রথমবার যুব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের, আপনার চোখে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের সামগ্রিক মূল্যায়ন কেমন? হকিতে দেশের ভবিষ্যত কেমন দেখছেন?
আমিরুল: পুরো বিশ্বকাপে আমাদের সবাই ভালো পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করেছে, আমরা দলগতভাবে খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর একসাথে ছিলাম, লক্ষ্যই ছিল ২০২৫ সালে বিশ্বকাপ খেলা। এটা আমরা মনের মধ্যে এমনভাবে গেঁথে নিয়েছিলাম, অনেক কষ্ট করেছি, ত্যাগ শিকার করেছি। এদিক থেকে বললে বলব, দলের সবাই খুবই ভালো খেলেছে এবং সবাই দলগত খেলা খেলেছে, সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছে। এই দলে আমরা প্রায় ১৫-১৬ জন একসাথে অনেকদিন খেলেছি। নতুন চার-পাঁচজন এসেছে তারা আমাদের সাথে ওইরকম দীর্ঘসময় অনুশীলন করার সুযোগ পায়নি।

বাংলাদেশ গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে, কমতির জায়গাটা কোথায় ছিল? বাংলাদেশের ঠিক কোন কোন জায়গায় উন্নতি করা প্রয়োজন?
আমিরুল: আমাদের কমতির জায়গা হল অভিজ্ঞতাটা কম ছিল। বড় বড় দলগুলোর সাথে আমরা ম্যাচ খেলতে পারিনি। আমরা যদি বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে প্রথম সারির যে দলগুলো আছে বা সেরা দশে যারা আছে তাদের সাথে যদি কমপক্ষে ১০-১২টি ম্যাচ খেলতে পারতাম, আশা করি বিশ্বকাপে আমরা যে ভুলগুলো করেছিলাম সেগুলো হতো না।
বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের সিরিজ আপনাদের কোন কাজে লেগেছিল কিনা?
আমিরুল: পাকিস্তান অবশ্যই ভালো দল। তারা বিশ্বকাপ খেলে, অলিম্পিক পদকের জন্য লড়াই করে। এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই আমাদের কাজে দিয়েছে। এই আসরে আমাদের একই কোচ ছিল, সে চেষ্টা করেছিল আগের স্ট্রাকচারেই খেলানোর জন্য। আমি বলব যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ওই প্লে-অফ সিরিজ অবশ্যই কাজে দিয়েছে।
প্লে-অফের ওই সিরিজের পর পাকিস্তান অধিনায়ক আম্মাদ ভাট বলেছিলেন, বাংলাদেশের এই দলে কিছু ভালো প্রতিভা দেখেছেন। সেটা আপনি, রাকিবুল নাকি অন্যকেউ?
আমিরুল: আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না, সেই ব্যাপারটা ভালো বলতে পারবে। আমি বলব সবাই চেষ্টা করেছেন দেশের জন্য সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সটা দেয়ার।

বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দেশের মানুষ, জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ঠিকঠাক হচ্ছে না কেন? বয়সভিত্তিক পর্যায়ের পর যেন খেলোয়াড়রা ঝরে না যান, সিনিয়র পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা বা তাদের পথ পরিস্কার করার জন্য ফেডারেশনের থেকে কী পদক্ষেপ আশা করছেন?
আমিরুল: প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ টুর্নামেন্ট না থাকা। আমাদের আন্তর্জাতিক ট্যুর নাই বললেই চলে। দুটা টুর্নামেন্ট আমরা প্রায় সময়ই খেলি, এএইচএফ কাপ ও এশিয়ান গেমস। জাতীয় দলের জন্য শুধু দুটা টুর্নামেন্টই হয়। এর বাইরে কোন আসরে আমরা খেলি না। আমি বলব এইটা একটা কারণ। আর সিনিয়র টিমে ক্যাম্পও হয় না, খেলাও খুবই কম, অনুশীলন সুবিধা কম। আমাদের আসলে কোন লক্ষ্য নেই, শুধু আসছি, খেলছি, চলে যাচ্ছি। যদি একটা লক্ষ্য থাকত আমাদের, ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ। যদি আমাদের লক্ষ্য থাকত, ওইভাবে আমরা প্রস্তুত হতাম খেলার জন্য। নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য না থাকা আমাদের বড় একটা কমতির জায়গা।
হকির নতুন এডহক কমিটি হয়েছে। তারা কোন লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন কিনা?
আমিরুল: এই বিষয়তে তারা আমাদের সাথে কিছু বলেননি। শুধু বলেছেন, সামনে আমাদের এশিয়ান গেমস আছে, সেটার দিকে লক্ষ্য স্থির করতে। আমি বলব এই বিষয়টা নিয়ে তারা যদি আরও বেশি গুরুত্ব দেন, ক্যাম্পের আয়োজন করেন এবং ট্রেনিংটা যেন সারাবছর রাখেন, খেলাটা যেন সারাবছর থাকে।
যুব বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে আপনাদের দলের অন্যতম কারিগর ছিলেন কোচ মওদুদুর রহমান শুভ। বিশ্বকাপের আগে তাকে পরিবর্তন করে নতুন কোচ নেয়া হয়েছিল। এতে আপনাদের উপর কোন প্রভাব পড়েছিল কিনা?
আমিরুল: দেখেন, কোচ নেয়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়টি নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। আপনি এই প্রশ্নটি ফেডারেশনের কাছে করলে ভালো উত্তর পাবেন বলে মনে করি।
হকি নিয়ে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দিতে চান?
আমিরুল: আশা করব তারা জুনিয়র দলকে যেভাবে সবসময় সমর্থন দিয়েছে, সিনিয়র দলকেও সেভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে। আমার আশা থাকবে যে, যারা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান আছে, তারা যদি হকির সাথে এগিয়ে আসে, হকির সাথে কাজ করে, হকিকে সাহায্য করে, আমার আশা হকি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল দেবে এবং হকির সাথে থাকলে হকির জনপ্রিয়তাও বাড়বে। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান যদি সমর্থন করে, টুর্নামেন্ট হয়, সারাবছর লিগ হয়, ফ্র্যাঞ্চাইলি লিগ হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ হকিও একদিন ক্রিকেট-ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলা হবে বাংলাদেশে।
‘হকির হামজা’র ঝাঁকড়া চুল নিয়ে সাধারণ মানুষ কী বলে, কেমন মন্তব্য করে?
আমিরুল: প্রথমত চুল নিয়ে হামজা ভাইয়ের সাথেই তুলনা করে মানুষ। বাহিরে গেলে সবাই হামজা ভাই, হামজা ভাই করে। হামজা ভাই বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করতেছেন। হামজা ভাইকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই প্রায় চেনে। আমার মনে হচ্ছে সবাই হামজা ভাইয়ের সাথেই আমার তুলনা করছেন। পরিবার থেকেও এই ধরনের ইতিবাচক কথা বলছে।

বাংলাদেশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার সাথে তুলনার ব্যাপারটি কতটা উপভোগ করছেন?
আমিরুল: হ্যাঁ, অবশ্যই, আমি ব্যাপারটি উপভোগ করছি। কারণ ফুটবলের বড় একটা অংশের জনপ্রিয়তা হামজা ভাইকে নিয়েই। অবশ্যই আমি ব্যাপারটি উপভোগ করছি।
আমিরুল ইসলাম, চ্যানেল আই অনলাইন স্পোর্টসকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমিরুল: আপনাকেও ধন্যবাদ।









