বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদ নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি। নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তামিম ইকবালসহ ১৬ জন প্রার্থী। পরবর্তীতে আরও পাঁচজন নির্বাচন বর্জন করলে সবমিলিয়ে ২১জন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে নবনির্বাচিত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সরে দাঁড়ানো সংগঠকদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চান। প্রয়োজনে তিনি নিজেই যাবেন তাদের কাছে।
সোমবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় বিসিবি পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন আমিনুল। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান এমন। জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র ও বিধিমালা মেনেই তারা নির্বাচন করেছেন। তবে যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
বলেছেন, ‘প্রথমেই সোজাসাপ্টা একটা স্টেটমেন্ট দিতে চাই, আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে চাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কারা ক্রিকেট বোর্ডে আছে কারা ক্রিকেট বোর্ডে নেই, সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের আমরা আহ্বান জানাবো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে এবং আমাদেরকে সহায়তা করতে। এখানে হয়ত বিতর্ক আছে- নির্বাচনের আগে সব দেশে, সব জায়গায়, সব সেক্টরেই হয়।’
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে গঠনতন্ত্র আছে সেটার মধ্যে থেকেছি। নির্বাচনের যে বিধিমালা ছিল তার মধ্যে ছিলাম। কিন্তু সোজা উত্তর হচ্ছে, কে বোর্ডে আছে কে বোর্ডে নেই, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাবো আমাদের সাথে একসাথে কাজ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দরকার হলে আমরা তাদের কাছে যাব এবং যারা এই মুহূর্তে বোর্ডে নেই তাদেরকেও আমরা আহ্বান জানাবো আমাদের যেন এই পথচলায় সহায়তা করে।’
মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নামটা ছিল তামিম ইকবালের। ওল্ড ডিওএসএইচ ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তবে নির্বাচন সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে মনোনয়ন প্রত্যহার করে নেন তিনি। এছাড়া আবাহনী ও মোহামেডানের মত ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও সরে দাঁড়ায় নির্বাচন থেকে। দেশের ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনে তামিমদের কাছেও যাবেন আমিনুল।
বলেছেন, ‘যেটা আগেও বলেছি আমরাই যাব তাদের কাছে যারা আসতে পারেনি। অ্যাপ্রোচ করব কিভাবে তারা আমাদের সহায়তা করতে পারে ক্রিকেটে। বাংলাদেশ তো সবার, নির্বাচন তো ছোট্ট একটা আনুষ্ঠানিক ব্যাপার। চেষ্টা করব সকলের কাছে গিয়ে একসাথে টেনে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।’
বিসিবির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফারুক আহমেদ ও মো. শাখাওয়াত হোসেন। সংবাদমাধ্যমে ফারুক আহমেদও জানান সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা। বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশের ক্রিকেট এগিয়ে নেওয়া। মাঝখানে ছোট খাটো বিষয় থাকবে, তা মানিয়ে নিতে হবে। এবার বোর্ডটা বড়। এর আগে আমি বা আমিনুল যে বোর্ড নিয়ে কাজ করেছে, তা ছোট ছিল। অনেককে তিন-চারটা কমিটির দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে, যা খুব কঠিন ছিল। আশা করি, সবাই মিলে কাজ করলে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড ভালো কাজ করবে।’









