অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যালান থমসন ৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম উইকেটটি নিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন থমসন।
অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের জন্যও তিনি বেশ আলোচিত ছিলেন। অনেকের কাছে অদ্ভুত অ্যাকশনের জন্যই থমসন অন্যরকম এক হিরো। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে সাত টেস্টের দীর্ঘ অ্যাশেজ সিরিজে চারটিতে খেলেছিলেন। ব্রিসবেন এবং পার্থে সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টের একাদশে ছিলেন।
মেলবোর্ন টেস্টের একাদশে ছিলেন না থমসন। ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি টেস্ট শুরুর কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে কোনো বল মাঠে গড়ানোর আগেই পরিত্যক্ত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে টেস্ট না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ৫ জানুয়ারি একটি ৪০ ওভারের ম্যাচ খেলে ফেলে। সেটাই হয়ে যায় ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে।
সেই টেস্টের দলে না থাকলেও ওয়ানডের একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন থমসন। টসে জিতে আগে বোলিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তো বটেই, ওয়ানডে ইতিহাসেরই প্রথম উইকেট শিকারি বোলার হন। তার বলে জেফ্রি বয়কট স্কয়ার লেগে অজি অধিনায়ক বিল লরির তালুবন্দি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ানডে দেখেছিল প্রথম উইকেটের পতন। সেই ম্যাচে এক উইকেটের বেশি না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ ওভারে ২২ রানের বেশি খরচ করেননি থমসন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার তারকা ব্যক্তি জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলতেন। থমসন ১৯৬৯ সালের শুরুর দিকে ভিক্টোরিয়া রাজ্য দলের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়েছিলেন। যার মধ্যে গ্যারি সোবার্সের ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে একটি ট্যুর ম্যাচ ছিল।
তিনি ভিক্টোরিয়ার হয়ে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডের শিরোপা জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন। গ্রেগ চ্যাপেল এবং ডেনিস লিলির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া বি দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন।
১৯৭০-৭১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ইংল্যান্ড। ব্রিসবেন টেস্টে থমসনের অভিষেক হয়। অজিদের হয়ে ২৫০তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পরেন। একই টেস্টে তার সঙ্গে রডনি মার্শেরও অভিষেক হয়েছিল।
ফ্রগি নামে পরিচিত থমসন ৪৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৮৪টি উইকেট পান। ৪ টেস্টের বেশি খেলতে পারেননি, নিয়েছিলেন ১২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলে। ভিক্টোরিয়ান ফুটবল লিগের রেফারিও ছিলেন।







