সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ আজ পরিণত হয়েছে শোক ও শ্রদ্ধার জনসমুদ্রে। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে সংসদ ভবনসংলগ্ন এই এলাকায়-শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে।
আজ মানিক মিয়া এভিনিউ যেন কেবল একটি সড়ক নয়-এটি হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। ভিন্ন মত, ভিন্ন পথের মানুষ একত্র হচ্ছেন এক জায়গায়। খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের এই দিনে সব পথ এসে মিলেছে মানিক মিয়ায়।
বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মানিক মিয়া এভিনিউ, শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ হেঁটে, বাসে, ব্যক্তিগত গাড়িতে এসে জড়ো হচ্ছেন। অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা, কেউ কেউ দলীয় পতাকা ও ফুল নিয়ে এসেছেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিতি চোখে পড়েছে। দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।
জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় এসেছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা জানাজায় উপস্থিত থেকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষের চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন। যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যাতে জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের রোগের কারণে শরীর ও মনে ব্যাপক ধকল যাচ্ছিল। এ কারণে মাঝেমধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সর্বশেষ দফায় চিকিৎসায় আর সাড়া দেননি তিনি।
‘দেশনেত্রী’ ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া অবশেষে চিরবিদায় নেন ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।









