রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৫’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
গেল বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের নাম জানানো হয়। এরমধ্যে শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ৫ জন পাচ্ছেন এই পদক। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন ‘ছুটির ঘণ্টা’ খ্যাত নির্মাতা আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)।
২০২২ সালে প্রয়াত হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তী নির্মাতা। দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ করে হয়েছেন প্রশংসিত। তার পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘অশিক্ষিত’ ও ‘ছুটির ঘণ্টা’ দেশে ও দেশের বাইরে ভীষণ প্রশংসিত হয়। সেই প্রয়াত নির্মাতার নাম একুশে পদকের তালিকায় দেখে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এ নিয়ে আবেগাপ্লুত নির্মাতার মেয়ে আলিয়া রহমান। বাবার নাম একুশে পদকের তালিকায় দেখে একই সঙ্গে বাবার কাজের তুলনায় রাষ্ট্রীয় অপ্রাপ্তির কথাও তুলে ধরেছেন আলিয়া।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে ‘ছুটির ঘণ্টা’ খ্যাত নির্মাতার মেয়ে লিখেন,“৫২ টি চলচ্চিত্রের নির্মাতা যিনি একাধারে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, একজন অংকন শিল্পী , প্রযোজক, কাহিনিকার, একজন পোস্টার মেকার, সেট ডিজাইনার, টাইটেল মেকার, মেকাপ আর্টিস্ট। তিনি একজন ভর্সেটাইল পার্সোনালিটির মানুষ একটা জাতীয় পুরস্কার এর সম্মান পেলনা। পাননি একটা আজীবন রাষ্ট্রীয় সন্মান। কিন্ত আজ আমাদের সেই দিন,পাপা আজিজুর রহমান বাংলাদেশের একুশে পদক পেয়েছেন। আমার বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। এটা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। ধন্যবাদ বাংলাদেশ সরকারকে আমরা বাবাকে এই সম্মানে ভূষিত করার জন্য।”
বাবা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এসময় আলিয়া বলেন,“তিনি কখন সমঝোতা করেননি, কখনো চাটুকারিতা করেননি, এবং নেই কোন স্ক্যান্ডালও।”
আজিজুর কন্যা বলেন,“চলচ্চিত্র জগতে যারা কাজ করেন, তাদের অনেক শ্রম এবং সময় দিতে হয় । পাপা বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন । তিনি তার সারা জীবন চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যয় করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী গল্প, নিরলস পরিশ্রম আর নতুন প্রযুক্তির উপর গবেষণা তার ছবিগুলোকে নিয়ে গেছে অন্য এক মাত্রায়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো তাইতো আলোচনায় আছে যুগের পর যুগ। তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে অন্যতম ছুটির ঘণ্টা, অশিক্ষিত, মাটির ঘর, জনতা এক্সপ্রেস, অতিথি, রঙিন রুপবান, দিল।”
“আমার বাবা আজিজুর রহমান একজন প্রকৃত মানুষ ছিলেন। যিনি অনেক পরিশ্রম করে এই পর্যায় পৌছেঁছেন। আমি বলবো তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষও, যিনি কিনা আমাদের পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। কখনও কোন কারণে আমাদের ছোট হতে দেন নি। খুবি সহজ সরল এবং নিরহংকার জীবন যাপন করতেন। পাপা ছিলেন কাজ পাগল একজন মানুষ। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাকে দেখেছি কাজের মাঝে ডুবে থাকতে। পাপা কখনো টাকার জন্য কাজ করতেন না, উনি বলতেন ‘আমি টাকার পেছনে ছুটবো না, এতো ভালো কাজ করবো যে, টাকা আমার পেছনে ছুটবে’।” বলছিলেন আলিয়া।
পরিচালক এহতেশামের সহকারি হিসেবে চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেন আজিজুর রহমান। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র লোককাহিনী নির্ভর সাইফুল মুল্ক্ বদিউজ্জামাল (১৯৬৭)। তিনি অশিক্ষিত (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০) চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। সেই সময়ে এসব ছবি দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি ব্যবসাসফলও হয়েছিলো।









