আহমদনগরে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের সালানা জলসা বা বার্ষিক সন্মেলনকে ঘিরে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে আহমদীয়া সম্প্রদায়।
শুক্রবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তির জনপদ পঞ্চগড় ঐতিহ্যগতভাবে শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীকরূপে বিবেচিত হয়ে আসছে। পঞ্চগড় শহরতলীতে অবস্থিত আহমদনগর ও শালশিড়ি গ্রামদুটি আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের সদস্য অধ্যুষিত। আহমদীসহ অত্র এলাকার সকল ধর্মমতের জনগণ এখানে দীর্ঘকাল যাবৎ শান্তি ও সম্প্রীতিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গত কয়েক বছর ধরে এই শান্তির জনপদে অশান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালানো হচ্ছে। যেখানে বিগত ৭২ বছর যাবৎ ‘কাদিয়ানী’ বা আহমদীয়া কোনো ইস্যুই ছিল না। সেখানে হঠাৎ করে এই ইস্যু তুলে এলাকায় অশান্তি করে এবং জনমনে আতংক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আহমদী মুসলমানদের বিরুদ্ধে অসত্য, মনগড়া ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, তাদেরকে উষ্কে দেয়া হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে। অথচ আহমদীরা অর্থাৎ আমরা মুসলমান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সালানা জলসা বা বার্ষিক সন্মেলন একটি নিয়মিত প্রোগ্রাম। এবারের জলসাটি ছিল ৯৮তম বার্ষিক জলসা, ইতোপূর্বে ৯৭টি জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থান সংকুলান হয় না বিধায় পঞ্চগড়ে সালানা জলসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে আমাদের জায়গা কেনার এবং অবকাঠামো নির্মাণের অধিকার রয়েছে। যেহেতু আহমদনগর ও শালশিড়িতে আমাদের বিপুল সংখ্যক সদস্য রয়েছেন, এখানে জাতীয় জলসা আয়োজনের ব্যবস্থা করছি ২০১৯ থেকে।
বিরোধের সূত্রপাত ২০১৯ সাল থেকে হয়েছিল বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাড়িঘরে আক্রমণ, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করে ৩, ৪ ও ৫ মার্চ ৯৮তম সালানা জলসা আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথেও নিয়মিত বৈঠক ও যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু জলসা অনুষ্ঠানের ঠিক এক দিন আগে একটি পক্ষ জলসা বন্ধ এবং আচমকা কয়েকটি বাড়িতে আক্রমণ করে বলে তারা উল্লেখ করে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে জলসা শুরুর পরে কিছু সংখ্যক উগ্র ও দুষ্কৃতিকারী আক্রমণ শুরু করে, তখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সহায়তা তারা পাননি বলেও জানানো হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের অধিকার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকার ও প্রশাসনের কাছে অধিকার সংরক্ষণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সেইসাথে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।







