টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ সি থেকে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান। দুদলের নিয়মরক্ষার ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সব রেকর্ড গড়ে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক উইন্ডিজ।
সেন্ট লুসিয়ায় মঙ্গলবার ভোরে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠান আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। নিকোলাস পুরানের ৯৮ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ২১৮ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। জবাবে ১৬.২ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বিশ্বকাপের শুরু থেকে অপ্রতিরোধ্য আফগানিস্তান।
ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৯২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর। ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ৯১ রান করেছিল নেদারল্যান্ডস। শুরুতে ব্র্যান্ডন কিং ফিরলে কাজটা করেন ওপেনার জনসন চার্লস ও তিনে উইকেটে আসা নিকোলাস পুরান।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে আফগান অলরাউন্ডার আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের এক ওভারে ৩৬ রান তোলেন পুরান। যদিও ৬ বলে ৬ ছক্কা হয়নি, ৩৬ রানের ওভারে লেগ বাই, ওয়াইড ও নো বলের অবদান ছিল। টি-টুয়েন্টিতে এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও এটি। বিশ্বকাপে আগে এক ওভারে ৩৬ রান দেন শুধু স্টুয়ার্ট ব্রড। ২০০৭ সালে ইংলিশ পেসারের ওভারে ৬টি ছক্কা মেরেছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং।
প্রথম ১৩ বলে ৩৬ রান আসে পুরানের ব্যাট থেকে, ইনিংসে পরের ২৭ বলে করেন ১৯ রান। নিজের ইনিংসের শেষ ১৩ বলে মারকুটে ব্যাটিংয়ে আনেন ৪৩ রান। ৬ চার ও ৮ ছক্কায় ৫৩ বলে ৯৮ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে রানআউট হন। ৮ ছক্কার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পুরানের ছক্কা এখন ১২৮টি। ১২৪ ছক্কা নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ক্রিস গেইল। স্বীকৃতি টি-টুয়েন্টিতে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ৫০০ ছক্কার ক্লাবে পৌঁছেছেন পুরান। সবমিলিয়ে তার এখন ৫০২টি ছক্কা।
পুরানের সঙ্গে জুটি গড়ে ৮ চারে ২৭ বলে ৪৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জনসন চার্লস। শাই হোপ ২৫ ও পাওয়েলের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। শেষদিকে আন্দ্রে রাসেল ৩ ও শেরফান রাদারফোর্ড ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
আফগানিস্তানের হয়ে গুলবাদিন নাইব নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন নাভিন-উল-হক ও আজমাতুল্লাহ ওমরজাই।
রানতাড়ায় ব্যর্থ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে শতকছোঁয়া জুটি গড়া আফগানিস্তানের দুই ওপেনার। প্রথম ওভারে আকিল হোসেনের বলে উড়িয়ে মারতে শূন্য রানে ফেরেন রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। এরপর ইব্রাহিম জাদরান চেষ্টা করেন রানের চাকা সচল রাখতে। সপ্তম ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন গুলবাদিন নাইব। ১৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আফগানরা।
২৮ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন ইব্রাহিম। ওমারজাইয়ের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২৩ রান। শেষদিকে রাশিদের ১১ বলে ১৮ রানে একশ পেরোয় আফগানিস্তান।
১৪ রানে ৩ উইকেট নেন ওবেদ ম্যাককয়। দুই বাঁহাতি স্পিনার আকিল ও গুডাকেশ মোতি ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
চার ম্যাচে চতুর্থ জয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইট শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে প্রি-সিডিং পদ্ধতির কারণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও ‘সি২’ হিসেবে দুই নম্বর গ্রুপে সেরা আটে খেলবে তারা। নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করা বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এক নম্বর গ্রুপে থাকছে আফগানিস্তান।









