মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপে নাম লেখানোর পর থেকেই হারের বৃত্তে ঘুরছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড সফরে আফঈদা খন্দকাররা হেরেছেন টানা দুই ম্যাচে। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে মালয়েশিয়ার কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ভালো করতে পারেনি পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আজারবাইজানের কাছে হেরে আফঈদার দল।
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ফিফা টেবিলে ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকা আজারবাইজানের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরুতে পিছিয়ে পড়ে মারিয়া মন্দার গোলে সমতায় ফিরলেও শেষপর্যন্ত পরাজয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ঋতুপর্ণা-মনিকাদের।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ আসে বাংলাদেশের। ডানপ্রান্ত থেকে বল পেয়ে ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন আজারবাইজান গোলরক্ষক শরিফোয়া আইতাজ। মিনিট পাঁচেক পর পাল্টা আক্রমণে যায় ইউরোপের দেশটি। শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অধিনায়ক জাফরজাদা সেভিঞ্জ।
গোলের জন্য বেশি সময় অপেক্ষাও করতে হয়নি তাকে। ২০তম মিনিটে দারুণ হেডারে স্বাগতিক জালের বল পাঠিয়ে লিড এনে দেন সেভিঞ্জ। প্রায় দেড়বছর পর জাতীয় দল জার্সিতে গোল পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অতিথি অধিনায়ক। সঙ্গে এক বার্তা দেখিয়ে মাকে উৎসর্গ করেন গোল।
২৮ মিনিটে আরও একবার আক্রমণে যায় আজারবাইজান। ডানপ্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার মায়না ইসরার দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন রূপনা। আক্রমণ জারি রাখেন ঋতুপর্ণা-মনিকারাও। ৩২ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে মনিকার দিকে দারুণ এক পাস দেন ঋতুপর্ণা। শট নেয়ার আগেই বিপদ মুক্ত করেন গোলরক্ষক আইতাজ।
৩৪ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। শট নেন স্বপ্না রানী। গোলপোস্টের সামনে জটলা থেকে আজারবাইজান ডিফেন্ডাররা বিপদমুক্ত করতে গেলে বল পেয়ে যান মারিয়া মান্দা। ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া দুর্দান্ত এক শটে লাল-সবুজদের সমতায় ফেরান তিনি। পরে দুদলের কেউই আর তেমন কোন আক্রমণে যেতে পারেনি। ১-১ গোলের সমতায় বিরতি আসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অগোছালো আক্রমণ চলে দুদলের। ৫২ মিনিটে সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার মাপা ক্রস থেকে বল যায় মনিকার কাছে। তিনি হেডারে গোলের জন্য চেষ্টা করে জালের দেখা পাননি। গোলপোস্টের খুব কাছ দিয়ে বল চলে যায় বাইরে। পরের মিনিটে মারিয়ার কাছে বল পেয়ে বাঁপ্রান্ত থেকে শট নেন ঋতুপর্ণা, এবারের সফল হননি তিনি।
ম্যাচের বাকি সময়ে আধিপত্য দেখায় আজারবাইজান। একের পর এক আক্রমণে শেষপর্যন্ত সাফল্যের দেখাও পায়। ৬১ মিনিটে বক্সে আজারবাইজানকে রুখে দেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা ও ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। ৭৩ মিনিটে রূপনার কল্যাণে আরও একবার রক্ষা পায় লাল-সবুজরা।
তবে ৮৪ মিনিটে আর জাল অক্ষত রাখতে পারেননি রূপনা। বাঁ-প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে ক্রস নেন অকার ইয়েলিজ। পেনাল্টি অঞ্চলের কাছে ফাঁকায় বল পেয়ে নিঁখুত শটে জালে জড়ান ইসরা। শেষে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আজারবাইজান।
অস্ট্রেলিয়ায় আগামী বছরের এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। জয় এলো না এক ম্যাচেও।









